Hi

১২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ১২.৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের তথ্যমতে, এ সময়ে দুই দেশের মধ্যকার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেশি। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত ১ অক্টোবর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সাফল্যের কথা জানানো হয়।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই গভীরতা নতুন কিছু নয়। ২০১০ সাল থেকে টানা ১৬ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে তার অবস্থান অটুট রেখেছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বর্তমানে যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের আম ও কাঁঠালের মতো কৃষি পণ্য এখন চীনা বাজারে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এছাড়া পেয়ারা ও সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি পেয়ারা ও সুগন্ধি চালের জন্য বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চীন বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে দেশটির প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর চীনা বিনিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার মাধ্যমে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়া গত জুলাইয়ে চট্টগ্রামে ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ চালু হয়েছে, যেখানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলে বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানি শিল্পের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই অঞ্চলটি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, যন্ত্রপাতি উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, বায়োমেডিসিন এবং সবুজ শক্তি শিল্পের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

অবকাঠামো খাতে চীনের উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে পদ্মা সেতু অন্যতম, যা ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সেতু বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১.২৩ শতাংশ অবদান রাখবে এবং দারিদ্র্যের হার ০.৮৪ শতাংশ কমাবে। পাশাপাশি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কয়লা, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ও মৈত্রী সেতু-৬ সংস্কারসহ বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। অবকাঠামো খাতের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে দূতাবাস পদ্মা সেতুকে একটি বড় প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে চীনা কোম্পানির নির্মিত এই সেতুটি ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের ২১টি জেলার সংযোগ স্থাপন করেছে। এতে আরও বলা হয়, চীনা কোম্পানিগুলো কয়লাভিত্তিক, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তায় চীন গত কয়েক বছরে ৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তার আওতায় ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, ওষুধ, ভেন্টিলেটর ও রোবোটিক পুনর্বাসন সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার শয্যার জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে চীনের ধারাবাহিক সমর্থনেরই প্রতিফলন। দূতাবাস জানায়, একটি সাধারণ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের আবাসিক হল, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৯ এবং একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলেছে। বিবৃতি অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশকে ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের সহায়তা প্রদান করেছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ১২.৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড

আপডেট : ১১:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের তথ্যমতে, এ সময়ে দুই দেশের মধ্যকার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেশি। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত ১ অক্টোবর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সাফল্যের কথা জানানো হয়।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই গভীরতা নতুন কিছু নয়। ২০১০ সাল থেকে টানা ১৬ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে তার অবস্থান অটুট রেখেছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বর্তমানে যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের আম ও কাঁঠালের মতো কৃষি পণ্য এখন চীনা বাজারে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এছাড়া পেয়ারা ও সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি পেয়ারা ও সুগন্ধি চালের জন্য বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চীন বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে দেশটির প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর চীনা বিনিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার মাধ্যমে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়া গত জুলাইয়ে চট্টগ্রামে ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ চালু হয়েছে, যেখানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলে বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানি শিল্পের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই অঞ্চলটি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, যন্ত্রপাতি উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, বায়োমেডিসিন এবং সবুজ শক্তি শিল্পের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

অবকাঠামো খাতে চীনের উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে পদ্মা সেতু অন্যতম, যা ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সেতু বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১.২৩ শতাংশ অবদান রাখবে এবং দারিদ্র্যের হার ০.৮৪ শতাংশ কমাবে। পাশাপাশি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কয়লা, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ও মৈত্রী সেতু-৬ সংস্কারসহ বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। অবকাঠামো খাতের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে দূতাবাস পদ্মা সেতুকে একটি বড় প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে চীনা কোম্পানির নির্মিত এই সেতুটি ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের ২১টি জেলার সংযোগ স্থাপন করেছে। এতে আরও বলা হয়, চীনা কোম্পানিগুলো কয়লাভিত্তিক, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তায় চীন গত কয়েক বছরে ৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তার আওতায় ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, ওষুধ, ভেন্টিলেটর ও রোবোটিক পুনর্বাসন সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার শয্যার জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে চীনের ধারাবাহিক সমর্থনেরই প্রতিফলন। দূতাবাস জানায়, একটি সাধারণ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের আবাসিক হল, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৯ এবং একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলেছে। বিবৃতি অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশকে ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের সহায়তা প্রদান করেছে।