দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। গত রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শিরোনামে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মূলত ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত এবং অন্যান্য সেবকদের মাসিক সম্মানী প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবের সময় তাদের জন্য উৎসব ভাতার সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় বৃদ্ধি করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
সরকার মনে করে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করে আসছেন। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে তাদের এই অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, এই নীতিমালায় কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ধর্মীয় সেবকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে এবং তারা আরও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণের মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতিকে আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বাসস প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না।
রিপোর্টার নাম: 























