Hi

০৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত প্রস্তাব চায় বিশেষ কমিটি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি এবার ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই চতুর্থ বৈঠকে টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদক, হেড অব নিউজ এবং বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে মিডিয়া প্রতিনিধিদের কাছ থেকে উন্মুক্ত প্রস্তাব আহ্বান করেছে। স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঠেকাতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্তটিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ-কোন ধাপে কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো রূপ পাবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত রোববার ও মঙ্গলবার দুই দিন ধরে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও ধাপ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আরও গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তর প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকে একে অগণতান্ত্রিক বললেও সরকারের পক্ষ থেকে এটি আনা হয়েছিল স্বৈরতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে। তবে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিরোধী দল বা অন্য কেউ বিকল্প প্রস্তাব দিলে তা আলোচনার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হলেও জুলাই সনদে যেহেতু এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে, তাই কমিটি সে অনুযায়ী অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রাখছে। কিন্তু আমাদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন যেন কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন।

বৈঠকে উপস্থিত মিডিয়া প্রতিনিধিরা টেকসই গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সব রাজনৈতিক দলকে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা নির্বাচন কমিশন ও দুদকের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার বিষয়েও তাদের মতামত তুলে ধরেন। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতেই যেন সংবিধান সংশোধনী চূড়ান্ত করা হয়, সেই আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে।

কমিটির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। জুলাই সনদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমঝোতা করা সম্ভব। তিনি ঘোষণা করেন যে, কমিটি পর্যায়ক্রমে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং গত ১৭ বছরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গেও বসবে। এছাড়া ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রিপোর্ট পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে এবং বিল পাশের মাধ্যমে সংশোধনী আনা হবে।

জনপ্রিয়

জাতিসংঘ সফর নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত প্রস্তাব চায় বিশেষ কমিটি

আপডেট : ০৮:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি এবার ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই চতুর্থ বৈঠকে টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদক, হেড অব নিউজ এবং বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে মিডিয়া প্রতিনিধিদের কাছ থেকে উন্মুক্ত প্রস্তাব আহ্বান করেছে। স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঠেকাতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্তটিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ-কোন ধাপে কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো রূপ পাবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত রোববার ও মঙ্গলবার দুই দিন ধরে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও ধাপ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আরও গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তর প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকে একে অগণতান্ত্রিক বললেও সরকারের পক্ষ থেকে এটি আনা হয়েছিল স্বৈরতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে। তবে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিরোধী দল বা অন্য কেউ বিকল্প প্রস্তাব দিলে তা আলোচনার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হলেও জুলাই সনদে যেহেতু এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে, তাই কমিটি সে অনুযায়ী অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রাখছে। কিন্তু আমাদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন যেন কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন।

বৈঠকে উপস্থিত মিডিয়া প্রতিনিধিরা টেকসই গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সব রাজনৈতিক দলকে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা নির্বাচন কমিশন ও দুদকের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার বিষয়েও তাদের মতামত তুলে ধরেন। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতেই যেন সংবিধান সংশোধনী চূড়ান্ত করা হয়, সেই আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে।

কমিটির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। জুলাই সনদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমঝোতা করা সম্ভব। তিনি ঘোষণা করেন যে, কমিটি পর্যায়ক্রমে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং গত ১৭ বছরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গেও বসবে। এছাড়া ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রিপোর্ট পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে এবং বিল পাশের মাধ্যমে সংশোধনী আনা হবে।