ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি প্রদর্শনের ঘটনার প্রতিবাদে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে এই পদক্ষেপ নেন। আবু তৈয়ব ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ঘটনার সময় আবু তৈয়ব তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত নায়কদের বাদ দিয়ে কেন জিন্নাহর ছবি এখানে রাখা হয়েছে, প্রশাসন ও ডাকসু নেতাদের কাছে তার জবাব চাওয়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে জিন্নাহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন, তাকে কীভাবে এখানে স্থান দেওয়া হয়? তার দাবি, ডাকসুতে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নায়ক আবুল কাসেম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের মতো ব্যক্তিত্বদের ছবি থাকা উচিত, জিন্নাহর নয়।
উল্লেখ্য যে, সংস্কারকাজ শেষে রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা পুনরায় দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপরই বিতর্কের সূত্রপাত হয়, কারণ সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি না থাকলেও জিন্নাহর তিনটি ছবি নতুন করে যুক্ত করা হয়। প্রদর্শিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার বিতর্কিত ঘোষণার প্রেক্ষাপট, ১৯৪০ সালের লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সম্মেলনে তার উপস্থিতি এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন সংক্রান্ত ডন পত্রিকার একটি প্রতিবেদন।
অন্যদিকে, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের কড়া নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বর্তমানে শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসু পরিষদ শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে উপেক্ষা করছে। তাদের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি ডাকসু নেতাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ এবং ‘পাকিস্তান প্রেম’ ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবিতেও জিন্নাহকে দেখা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্য ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।
রিপোর্টার নাম: 
























