Hi

০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে সম্পর্ক আরও গভীর করার ঘোষণা পুতিন ও সি চিন পিংয়ের

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৩:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪২ জন দেখেছে

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করে নিজেদের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল সোমবার এই দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। মে মাসের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক।

বৈঠকের শুরুতে সি চিন পিং পুতিনের সঙ্গে পুনরায় দেখা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বেইজিং ও মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সি চিন পিংয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে পুতিন জানান, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সব ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে চলছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, দুই নেতার আলোচনায় মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গটি কেবল আলোচনার খাতিরে উঠে এসেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জোট এসসিওর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশকেকে আয়োজিত এই সম্মেলনে এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পুতিনের আলাদা বৈঠক হয়েছে। সেখানে মোদি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে পুতিন জানান, মস্কোও এই সংকট সমাধানের কার্যকর পথ খুঁজছে। এছাড়া পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানেরও বৈঠকের কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের পর থেকে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া ও চীনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, সি চিন পিং, পেজেশকিয়ান, মোদি ও শাহবাজ শরিফসহ অন্যান্য নেতারা অংশ নেবেন। কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন। রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছর এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বর্তমানে এসসিও জোটের সদস্য সংখ্যা ১০টি। এছাড়া তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারসহ ১৫টি দেশ জোটটির অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে সম্মেলনে যুক্ত রয়েছে।

২৯ বছরেও কাটেনি লক্ষ্মীপুর বিসিকের নানামুখী সংকট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে সম্পর্ক আরও গভীর করার ঘোষণা পুতিন ও সি চিন পিংয়ের

আপডেট : ০৩:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করে নিজেদের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল সোমবার এই দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। মে মাসের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক।

বৈঠকের শুরুতে সি চিন পিং পুতিনের সঙ্গে পুনরায় দেখা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বেইজিং ও মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সি চিন পিংয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে পুতিন জানান, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সব ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে চলছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, দুই নেতার আলোচনায় মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গটি কেবল আলোচনার খাতিরে উঠে এসেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জোট এসসিওর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশকেকে আয়োজিত এই সম্মেলনে এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পুতিনের আলাদা বৈঠক হয়েছে। সেখানে মোদি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে পুতিন জানান, মস্কোও এই সংকট সমাধানের কার্যকর পথ খুঁজছে। এছাড়া পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানেরও বৈঠকের কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের পর থেকে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া ও চীনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, সি চিন পিং, পেজেশকিয়ান, মোদি ও শাহবাজ শরিফসহ অন্যান্য নেতারা অংশ নেবেন। কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন। রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছর এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বর্তমানে এসসিও জোটের সদস্য সংখ্যা ১০টি। এছাড়া তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারসহ ১৫টি দেশ জোটটির অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে সম্মেলনে যুক্ত রয়েছে।