Hi

০৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তৃতার সময় ৭৭ দেশের কূটনীতিকদের বর্জন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাধারণ পরিষদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যখন তার বক্তব্য শুরু করতে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিদল প্রতিবাদস্বরূপ হল থেকে বেরিয়ে যান। অনেকে আবার শুরু থেকেই তাদের আসনে উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনাকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪ তাদের দেশের জন্য ‘অপমানজনক’ বলে বর্ণনা করেছে, আবার ইয়েদিওথ আহরোনোথ এটিকে এক ধরনের নাটকীয় প্রতিবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে হল ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে নেতানিয়াহু তাদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেন। যারা তখনও হলে ছিলেন, তাদের প্রতিও তিনি কক্ষ ত্যাগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, ইসরাইল তার আত্মরক্ষার মাধ্যমে কেবল নিজেদের নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই বক্তব্যে তিনি গাজা যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, নিজের দেশের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তবে গাজায় গণহত্যার যে অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যে সিরিয়ার গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি কাতার ও তুরস্কের নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করা হয়। আলোচনার বাইরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং অস্ত্র সরবরাহ স্থগিতের দাবিতে সরব হন। এসময় বিক্ষোভের জেরে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। এদিকে ফিলিস্তিনি মিশন আগেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রতি এই বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল, যেন ইসরাইলের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই ঘটনাটিকে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে। যদিও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধের যাবতীয় অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেগুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স, আল-মনিটর ও আইটিভি নিউজের তথ্যানুসারে, এদিনের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের প্রতি বড় একটি অংশের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

জনপ্রিয়

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তৃতার সময় ৭৭ দেশের কূটনীতিকদের বর্জন

আপডেট : ১২:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাধারণ পরিষদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যখন তার বক্তব্য শুরু করতে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিদল প্রতিবাদস্বরূপ হল থেকে বেরিয়ে যান। অনেকে আবার শুরু থেকেই তাদের আসনে উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনাকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪ তাদের দেশের জন্য ‘অপমানজনক’ বলে বর্ণনা করেছে, আবার ইয়েদিওথ আহরোনোথ এটিকে এক ধরনের নাটকীয় প্রতিবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে হল ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে নেতানিয়াহু তাদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেন। যারা তখনও হলে ছিলেন, তাদের প্রতিও তিনি কক্ষ ত্যাগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, ইসরাইল তার আত্মরক্ষার মাধ্যমে কেবল নিজেদের নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই বক্তব্যে তিনি গাজা যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, নিজের দেশের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তবে গাজায় গণহত্যার যে অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যে সিরিয়ার গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি কাতার ও তুরস্কের নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করা হয়। আলোচনার বাইরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং অস্ত্র সরবরাহ স্থগিতের দাবিতে সরব হন। এসময় বিক্ষোভের জেরে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। এদিকে ফিলিস্তিনি মিশন আগেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রতি এই বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল, যেন ইসরাইলের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই ঘটনাটিকে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে। যদিও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধের যাবতীয় অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেগুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স, আল-মনিটর ও আইটিভি নিউজের তথ্যানুসারে, এদিনের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের প্রতি বড় একটি অংশের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।