পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মোহাম্মদ আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে জমির নামজারি বা খতিয়ান খোলার জন্য সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, চারটি জমির দলিলের বিপরীতে নামজারি সম্পন্ন করার কথা বলে সেবাগ্রহীতার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করছেন ওই কর্মকর্তা। এ সময় ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, ১ হাজার ১৫০ টাকার সরকারি কাজের জন্য কেন ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে? এর জবাবে তহশিলদার তাকে আটটি টেবিলের খরচের দোহাই দেন।
ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন খন্দকার (৪২) জানান, অনেক দর-কষাকষির পর ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মিটমাট করার চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে আবদুস সোবাহান তার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা অগ্রিম গ্রহণ করেন। বাকি টাকা বিকাশে নেওয়ার প্রস্তাব করা হলে তহশিলদার তা গ্রহণ না করে সরাসরি হাতে টাকা দেওয়ার কথা জানান। মহিউদ্দিনের ভাষ্যমতে, এরপর তাকে কয়েক মাস নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এমনকি চারটি দলিলের মধ্যে দুটি বাদ দিয়ে বাকি দুটির বিপরীতে খতিয়ান করা হয় এবং সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত ১ হাজার ১৫০ টাকা ফি জমা দিতে তাকে বাধ্য করা হয়।
উল্লেখ্য, জমির নামজারি বা মিউটেশন হলো জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ করার একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার নির্ধারিত সরকারি ফি মাত্র ১ হাজার ১৫০ টাকা। অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তহশিলদার মোহাম্মদ আবদুস সোবাহান। তিনি দাবি করেন, মহিউদ্দিন খন্দকার নামের কেউ তার কাছে আসেননি এবং তার কোনো কাগজপত্রও জমা হয়নি।
ভিডিওটি নজরে আসার পর রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, তহশিলদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া সরকারি রাজস্ব খাতের ফি বাবদ ১ হাজার ১৫০ টাকা তাঁকে পরিশোধ করতে চাপ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জবাবে তহশিলদার সার্ভেয়ার-কানুনগোসহ মোট আটটি টেবিলের খরচের হিসাব তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগটির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 
























