Hi

১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে ২৫.৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা একক মাস হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। আগস্ট মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে গত বছরের একই মাসে এই পরিমাণ ছিল ৬৫০.৩৪ মিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে মোট ১.৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১.৪২ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬.৪৬ মিলিয়ন ডলার। অথচ গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল ৬৪৫.৩৮ মিলিয়ন ডলার। রপ্তানি খাতের এই বাড়তি গতি মূলত আগস্টের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের সিইও মহিউদ্দিন রুবেল জানান, বর্তমান রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, এই ধারা আগামী ১২ মাস অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম একক রপ্তানি বাজার হওয়ায় পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং উচ্চমূল্য সংযোজন এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন। তবে এজন্য জ্বালানিসহ নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তৈরি পোশাকের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চামড়া, পাট, হোম টেক্সটাইল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের মতো খাতে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল, যার মধ্যে তৈরি পোশাকের অবদান ছিল ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার। অবশিষ্ট ১.৩০ বিলিয়ন ডলার এসেছে অন্যান্য খাত থেকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন এ ধরনের অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তা এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, শীতকালীন পোশাকের অর্ডারের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় আগস্টে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অন্তর্নিহিত সক্ষমতা রয়েছে, যা সংকট কাটাতে সাহায্য করছে। তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানও একই অভিমত পোষণ করে বলেন, বর্তমান সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং নীতি-সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

সর্বোপরি, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই অর্জিত এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। এই সাফল্যকে পুঁজি করে যদি জ্বালানি সংকট নিরসন এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিধি আরও কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪.০৯ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের মতে, সামনের মাসগুলোতে বাজারটিতে বাংলাদেশি পোশাকের অর্ডার বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম বড় উদ্যোক্তা ও বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই সেখানে রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্য সংযোজন ও মানোন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের

আপডেট : ০৯:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে ২৫.৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা একক মাস হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। আগস্ট মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে গত বছরের একই মাসে এই পরিমাণ ছিল ৬৫০.৩৪ মিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে মোট ১.৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১.৪২ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬.৪৬ মিলিয়ন ডলার। অথচ গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল ৬৪৫.৩৮ মিলিয়ন ডলার। রপ্তানি খাতের এই বাড়তি গতি মূলত আগস্টের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের সিইও মহিউদ্দিন রুবেল জানান, বর্তমান রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, এই ধারা আগামী ১২ মাস অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম একক রপ্তানি বাজার হওয়ায় পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং উচ্চমূল্য সংযোজন এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন। তবে এজন্য জ্বালানিসহ নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তৈরি পোশাকের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চামড়া, পাট, হোম টেক্সটাইল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের মতো খাতে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল, যার মধ্যে তৈরি পোশাকের অবদান ছিল ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার। অবশিষ্ট ১.৩০ বিলিয়ন ডলার এসেছে অন্যান্য খাত থেকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন এ ধরনের অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তা এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, শীতকালীন পোশাকের অর্ডারের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় আগস্টে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অন্তর্নিহিত সক্ষমতা রয়েছে, যা সংকট কাটাতে সাহায্য করছে। তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানও একই অভিমত পোষণ করে বলেন, বর্তমান সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং নীতি-সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

সর্বোপরি, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই অর্জিত এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। এই সাফল্যকে পুঁজি করে যদি জ্বালানি সংকট নিরসন এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিধি আরও কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪.০৯ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের মতে, সামনের মাসগুলোতে বাজারটিতে বাংলাদেশি পোশাকের অর্ডার বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম বড় উদ্যোক্তা ও বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই সেখানে রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্য সংযোজন ও মানোন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।