নারী, শিশু এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজিত ‘নারী-শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ: অংশীজন সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এই আহ্বান জানান। সংলাপে মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, দেশে মানবাধিকার সুরক্ষায় পর্যাপ্ত আইন ও নীতিমালা থাকলেও মাঠপর্যায়ে সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগে ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে আইনি সেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা একটি বড় বাধা। তাহমিনা রহমান আরও উল্লেখ করেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় শেল্টার হোমের সংখ্যা অত্যন্ত কম। শুধু নারী বা শিশু নয়, নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্যও বিশেষায়িত শেল্টার সাপোর্ট বা আশ্রয়কেন্দ্রের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।
সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজমিন সুলতানা এবং উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম তাদের দাপ্তরিক অবস্থান তুলে ধরেন। এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা আইভী আক্তার, ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী চিকিৎসক তাইয়েবা সুলতানা, নারীপক্ষের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কামরুন্নাহার, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক প্রবীর দত্ত এবং সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের (সিইএফ) ডেপুটি টিম লিডার ক্যাটরিনা কইনিগ গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন।
আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা বেশ কিছু সুপারিশমালা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় সেবা কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তি এবং রেফারেল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। এছাড়া নারী ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইনে প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
রিপোর্টার নাম: 























