Hi

০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজার

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০২:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ জন দেখেছে

মৌলভীবাজার শহরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পশ্চিম বাজার কয়েকশ বছরের ঐতিহ্যের ধারক। এর সূচনালগ্ন নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইতিহাস অনুসন্ধানী সৈয়দ আবদুল মতালিব রঞ্জুর তথ্যানুসারে, ১৮১০ সালে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গী হজরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহ.)-এর বংশধর এবং জমিদার মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ মনু নদের পশ্চিম তীরে এই বাজারের পত্তন করেন। ১৭৯৩ সালে তিনি মুন্সেফ বা বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

একসময় এ অঞ্চলের ব্যবসার প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। মনু নদ ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগস্থলের মনুমুখ বাজারের লঞ্চঘাট ছিল ব্যবসার প্রাণ। এখান থেকে পাট নারায়ণগঞ্জে বা ভারতে পাঠানো হতো, যা ছিল তখনকার অর্থনীতির বড় অবলম্বন। কাঠের ব্যবসার ক্ষেত্রেও নদী ছিল প্রধান পরিবহন পথ; রাজকান্দি, জুড়ী ও লাউয়াছড়ার বনাঞ্চলের গাছ হাতি দিয়ে টেনে নদীতে ভাসিয়ে ঘাটে আনা হতো। চা-শিল্পের প্যাকিং বাক্স তৈরিতে শিমুল, কদম ও হারিশগাছ ব্যবহৃত হতো। ১৯৮৯ সালে সংরক্ষিত বনের গাছ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসার পর কাঠের ব্যবসায় ধস নামে।

বর্তমানে পশ্চিম বাজার উৎসবনির্ভর বাজারের চেয়ে রেমিট্যান্স-নির্ভর আধুনিক কেনাকাটার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী রিপন সরদার জানান, এই অঞ্চলের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেশি হওয়ার মূল কারণ প্রবাসী আয়। ইউরোপ-আমেরিকায় ছুটি থাকাকালীন প্রবাসীদের আগমনে বাজারের বেচাকেনা বহুগুণ বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বিদেশি বিপণিবিতানের আদলে দোকানের সাজসজ্জা ও ইন্টেরিয়র করছেন।

কসমেটিকস ও পোশাক ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাজারের মূল জ্বালানি। এই বিপুল লেনদেনের সুবিধার জন্য এলাকায় এক্সিম ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের সুবিধা গড়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ক্রেতা ফয়সল আহমেদ জানান, ছোটবেলায় দেখা সাদামাটা বাজারের বদলে এখনকার আধুনিক শপিং মলের চিত্র ভিন্ন হলেও, পার্কিং ও হাঁটার সুবিধার অভাব এখনো প্রকট।

প্রায় ছয় হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ এই কেন্দ্রের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বর্তমানে বাণিজ্যে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। এছাড়া, বেহাল রাস্তার কারণে মালবাহী ট্রাক বাজারে প্রবেশ করাতে বেশ বেগ পেতে হয় পাইকারি ব্যবসায়ীদের।

ঐতিহ্য ধরে রেখে এখনো এখানে বাদ্যযন্ত্রের বাজার টিকে আছে। ‘আলো মিউজিক সেন্টার’-এর মালিক পিঙ্কু দাস জানান, একটি হারমোনিয়াম তৈরিতে প্রায় সাত দিন লাগে এবং এর দাম ১২ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে হয়। এছাড়া বেতের আসবাব তৈরির শিল্প এখনো টিকে থাকলেও কাঁচামালের অভাব ও প্লাস্টিকের পণ্যের দাপটে তা সংকটের মুখে। কারুকার্যময় আসবাবের স্বত্বাধিকারী শাহিন মিয়া জানান, শৌখিন ক্রেতা ও প্রবাসীরা এখনো এসব আসবাবের প্রতি আগ্রহী।

কৃষিপণ্যের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন আড়তদারদের বাইরের জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। কলার আড়তদার মোহাম্মদ আতাউর রহমান ও নূর মিয়া জানান, সাগর, সবরি ও চাঁপা কলার বড় অংশই আসে রাজশাহী ও বগুড়া থেকে। মৎস্য আড়তের চিত্রও অনেকটা একই; আগে হাইল হাওর বা হাকালুকির প্রাকৃতিক মাছের আধিক্য থাকলেও এখন ৯০-৯৫ শতাংশ মাছই আসে পুকুরে চাষ করা বাণিজ্যিক খামার থেকে। প্রতি ভোরে আড়তে কোটি টাকার মাছ নিলাম হয়, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও উপজেলায় সরবরাহ করা হয়।

শহরের অবকাঠামোগত সংকট স্থানীয় বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বিসিক শিল্প এলাকার অবস্থা নাজুক, যেখানে অধিকাংশ কারখানা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের মতে, উপযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, বিসিকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ এবং কাঁচামাল সহজলভ্য করা না গেলে অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্ষার স্নিগ্ধ সকালে মৌলভীবাজার শহরের প্রবেশপথে বাঁক নেওয়া মনু নদ পার হলেই শুরু হয় এক বিশাল বাণিজ্যিক কর্মযজ্ঞ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদের সমান্তরালে এম সাইফুর রহমান রোড (পুরোনো সেন্ট্রাল রোড) ধরে কিছুটা এগোলেই দেখা মেলে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র পশ্চিম বাজারের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় ছয় হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যকেন্দ্রের শিকড় প্রোথিত শত বছর আগের এক গ্রামীণ হাটের ইজারা প্রথা ও মনু নদকেন্দ্রিক বাণিজ্যের গভীরে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজারের ভেতরে আধুনিক বাণিজ্যিক ভবনের দাপট বেশি চোখে পড়লেও আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরোনো ‘সাধনা ঔষধালয়’ এবং আরও প্রাচীন টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ ভবন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শতবর্ষী এই টেলিগ্রাফ ভবনের দেয়াল যেন সেকালের বাণিজ্যিক যোগাযোগের গল্প বলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একসময় যে মনু নদের ঘাটকে কেন্দ্র করে এখানকার ব্যবসার গোড়াপত্তন হয়েছিল, অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক নগরায়ণের চাপে আজ বাজার থেকে সেই নদের নাগাল পেতে বেশ খানিকটা পথ হাঁটতে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কালের পরিক্রমায় নদের পুরোনো লঞ্চঘাট হারিয়ে গেলেও পশ্চিম বাজার সময়ের সঙ্গে নিজেকে রূপান্তর করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্রামীণ কৃষিপণ্যের হাট থেকে আজকের আধুনিক রেমিট্যান্স–নির্ভর ব্যবসাকেন্দ্রটি মৌলভীবাজারের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক বিবর্তনের এক জীবন্ত চিত্র।

জনপ্রিয়

মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজার

আপডেট : ০২:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজার শহরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পশ্চিম বাজার কয়েকশ বছরের ঐতিহ্যের ধারক। এর সূচনালগ্ন নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইতিহাস অনুসন্ধানী সৈয়দ আবদুল মতালিব রঞ্জুর তথ্যানুসারে, ১৮১০ সালে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গী হজরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহ.)-এর বংশধর এবং জমিদার মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ মনু নদের পশ্চিম তীরে এই বাজারের পত্তন করেন। ১৭৯৩ সালে তিনি মুন্সেফ বা বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

একসময় এ অঞ্চলের ব্যবসার প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। মনু নদ ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগস্থলের মনুমুখ বাজারের লঞ্চঘাট ছিল ব্যবসার প্রাণ। এখান থেকে পাট নারায়ণগঞ্জে বা ভারতে পাঠানো হতো, যা ছিল তখনকার অর্থনীতির বড় অবলম্বন। কাঠের ব্যবসার ক্ষেত্রেও নদী ছিল প্রধান পরিবহন পথ; রাজকান্দি, জুড়ী ও লাউয়াছড়ার বনাঞ্চলের গাছ হাতি দিয়ে টেনে নদীতে ভাসিয়ে ঘাটে আনা হতো। চা-শিল্পের প্যাকিং বাক্স তৈরিতে শিমুল, কদম ও হারিশগাছ ব্যবহৃত হতো। ১৯৮৯ সালে সংরক্ষিত বনের গাছ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসার পর কাঠের ব্যবসায় ধস নামে।

বর্তমানে পশ্চিম বাজার উৎসবনির্ভর বাজারের চেয়ে রেমিট্যান্স-নির্ভর আধুনিক কেনাকাটার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী রিপন সরদার জানান, এই অঞ্চলের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেশি হওয়ার মূল কারণ প্রবাসী আয়। ইউরোপ-আমেরিকায় ছুটি থাকাকালীন প্রবাসীদের আগমনে বাজারের বেচাকেনা বহুগুণ বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বিদেশি বিপণিবিতানের আদলে দোকানের সাজসজ্জা ও ইন্টেরিয়র করছেন।

কসমেটিকস ও পোশাক ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাজারের মূল জ্বালানি। এই বিপুল লেনদেনের সুবিধার জন্য এলাকায় এক্সিম ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের সুবিধা গড়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ক্রেতা ফয়সল আহমেদ জানান, ছোটবেলায় দেখা সাদামাটা বাজারের বদলে এখনকার আধুনিক শপিং মলের চিত্র ভিন্ন হলেও, পার্কিং ও হাঁটার সুবিধার অভাব এখনো প্রকট।

প্রায় ছয় হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ এই কেন্দ্রের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বর্তমানে বাণিজ্যে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। এছাড়া, বেহাল রাস্তার কারণে মালবাহী ট্রাক বাজারে প্রবেশ করাতে বেশ বেগ পেতে হয় পাইকারি ব্যবসায়ীদের।

ঐতিহ্য ধরে রেখে এখনো এখানে বাদ্যযন্ত্রের বাজার টিকে আছে। ‘আলো মিউজিক সেন্টার’-এর মালিক পিঙ্কু দাস জানান, একটি হারমোনিয়াম তৈরিতে প্রায় সাত দিন লাগে এবং এর দাম ১২ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে হয়। এছাড়া বেতের আসবাব তৈরির শিল্প এখনো টিকে থাকলেও কাঁচামালের অভাব ও প্লাস্টিকের পণ্যের দাপটে তা সংকটের মুখে। কারুকার্যময় আসবাবের স্বত্বাধিকারী শাহিন মিয়া জানান, শৌখিন ক্রেতা ও প্রবাসীরা এখনো এসব আসবাবের প্রতি আগ্রহী।

কৃষিপণ্যের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন আড়তদারদের বাইরের জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। কলার আড়তদার মোহাম্মদ আতাউর রহমান ও নূর মিয়া জানান, সাগর, সবরি ও চাঁপা কলার বড় অংশই আসে রাজশাহী ও বগুড়া থেকে। মৎস্য আড়তের চিত্রও অনেকটা একই; আগে হাইল হাওর বা হাকালুকির প্রাকৃতিক মাছের আধিক্য থাকলেও এখন ৯০-৯৫ শতাংশ মাছই আসে পুকুরে চাষ করা বাণিজ্যিক খামার থেকে। প্রতি ভোরে আড়তে কোটি টাকার মাছ নিলাম হয়, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও উপজেলায় সরবরাহ করা হয়।

শহরের অবকাঠামোগত সংকট স্থানীয় বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বিসিক শিল্প এলাকার অবস্থা নাজুক, যেখানে অধিকাংশ কারখানা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের মতে, উপযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, বিসিকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ এবং কাঁচামাল সহজলভ্য করা না গেলে অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্ষার স্নিগ্ধ সকালে মৌলভীবাজার শহরের প্রবেশপথে বাঁক নেওয়া মনু নদ পার হলেই শুরু হয় এক বিশাল বাণিজ্যিক কর্মযজ্ঞ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদের সমান্তরালে এম সাইফুর রহমান রোড (পুরোনো সেন্ট্রাল রোড) ধরে কিছুটা এগোলেই দেখা মেলে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র পশ্চিম বাজারের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় ছয় হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যকেন্দ্রের শিকড় প্রোথিত শত বছর আগের এক গ্রামীণ হাটের ইজারা প্রথা ও মনু নদকেন্দ্রিক বাণিজ্যের গভীরে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজারের ভেতরে আধুনিক বাণিজ্যিক ভবনের দাপট বেশি চোখে পড়লেও আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরোনো ‘সাধনা ঔষধালয়’ এবং আরও প্রাচীন টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ ভবন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শতবর্ষী এই টেলিগ্রাফ ভবনের দেয়াল যেন সেকালের বাণিজ্যিক যোগাযোগের গল্প বলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একসময় যে মনু নদের ঘাটকে কেন্দ্র করে এখানকার ব্যবসার গোড়াপত্তন হয়েছিল, অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক নগরায়ণের চাপে আজ বাজার থেকে সেই নদের নাগাল পেতে বেশ খানিকটা পথ হাঁটতে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কালের পরিক্রমায় নদের পুরোনো লঞ্চঘাট হারিয়ে গেলেও পশ্চিম বাজার সময়ের সঙ্গে নিজেকে রূপান্তর করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্রামীণ কৃষিপণ্যের হাট থেকে আজকের আধুনিক রেমিট্যান্স–নির্ভর ব্যবসাকেন্দ্রটি মৌলভীবাজারের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক বিবর্তনের এক জীবন্ত চিত্র।