Hi

০২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানে না নয়াদিল্লি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৯ জন দেখেছে

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে কিছু জানায়নি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো প্রয়োজনে দেশটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, সাবেক সরকারের করা এসব চুক্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো ধারা আছে কি না, তা সরকার যাচাই করে দেখছে।

সংবাদ সম্মেলনে এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন, কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভারত নিজের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর হামলার সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়ভার সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের ওপরই বর্তায়।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ইস্যুতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র। বিশেষ করে পাকিস্তান ও কুয়েতের সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবিত কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সব বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি। ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। এর বাইরে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ভারত বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।

দুই দেশের পানিবণ্টন চুক্তি ও যৌথ নদী কমিশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল জানান, পানিবণ্টনসহ দুই দেশের পানি সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) একটি প্রতিষ্ঠিত কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, পানি সংক্রান্ত কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জনপ্রিয়

অপ্রতিম মৃত্যুর ঘটনা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানে না নয়াদিল্লি

আপডেট : ১১:০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে কিছু জানায়নি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো প্রয়োজনে দেশটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, সাবেক সরকারের করা এসব চুক্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো ধারা আছে কি না, তা সরকার যাচাই করে দেখছে।

সংবাদ সম্মেলনে এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন, কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভারত নিজের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর হামলার সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়ভার সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের ওপরই বর্তায়।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ইস্যুতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র। বিশেষ করে পাকিস্তান ও কুয়েতের সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবিত কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সব বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি। ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। এর বাইরে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ভারত বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।

দুই দেশের পানিবণ্টন চুক্তি ও যৌথ নদী কমিশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল জানান, পানিবণ্টনসহ দুই দেশের পানি সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) একটি প্রতিষ্ঠিত কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, পানি সংক্রান্ত কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ।