Hi

১০:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করলেন মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকল

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:০২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৫ জন দেখেছে

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান বা আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকল নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। কয়েক মাস ধরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর তীব্র মতবিরোধ চলছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করেনি, তবে ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং এগেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ড্রিসকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানগুলোতে তাঁর নেতৃত্ব এবং রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় তাঁর সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেছে হোয়াইট হাউস। উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তার জন্য কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত হওয়া বেশ বিরল ঘটনা।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হেগসেথ ড্রিসকলকে নিজের জন্য হুমকি হিসেবে মনে করতেন। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র‍্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার ঘটনায় ড্রিসকল গভীরভাবে হতবাক হয়েছিলেন, যা তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড্রিসকল সেনাবাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং বড় অস্ত্র কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করেছিলেন। তবে হেগসেথের নেতৃত্বাধীন পেন্টাগন থেকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সরে যাওয়ার তালিকায় ড্রিসকল সর্বশেষ সংযোজন। এর আগে গত এপ্রিলে নেভি সেক্রেটারি জন ফেলান পদত্যাগ করেন, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কোনো সামরিক শাখার প্রধানের প্রথম পদত্যাগের ঘটনা ছিল।

হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি একের পর এক জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন। এর আগে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুও হঠাৎ পদত্যাগ করেছিলেন। এসব ঘটনায় পেন্টাগনের অভ্যন্তরে এক ধরনের অস্বস্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ড্রিসকলের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হেগসেথের জন্য বেশ কঠিন ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা ড্রিসকল সেনাবাহিনীর ‘রূপান্তর ও প্রস্তুতি’ নিয়ে প্রশাসনের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে এই পদত্যাগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশটির সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল সোমবার এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হেগসেথকে নিয়ে কেন পেন্টাগনে আতঙ্ক, কেন তাঁকে নিয়ে অস্বস্তিতে কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি আর যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরান যুদ্ধ নিয়ে হেগসেথকে কেন সন্দেহ করছেন ভ্যান্স, তিনি কি আসলেই ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করছেন। চাকরির আরও তথ্য: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ড্রিসকলের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন আর্মি সেক্রেটারির দায়িত্ব হলো, সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করলেন মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকল

আপডেট : ১২:০২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান বা আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকল নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। কয়েক মাস ধরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর তীব্র মতবিরোধ চলছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করেনি, তবে ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং এগেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ড্রিসকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানগুলোতে তাঁর নেতৃত্ব এবং রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় তাঁর সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেছে হোয়াইট হাউস। উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তার জন্য কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত হওয়া বেশ বিরল ঘটনা।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হেগসেথ ড্রিসকলকে নিজের জন্য হুমকি হিসেবে মনে করতেন। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র‍্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার ঘটনায় ড্রিসকল গভীরভাবে হতবাক হয়েছিলেন, যা তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড্রিসকল সেনাবাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং বড় অস্ত্র কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করেছিলেন। তবে হেগসেথের নেতৃত্বাধীন পেন্টাগন থেকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সরে যাওয়ার তালিকায় ড্রিসকল সর্বশেষ সংযোজন। এর আগে গত এপ্রিলে নেভি সেক্রেটারি জন ফেলান পদত্যাগ করেন, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কোনো সামরিক শাখার প্রধানের প্রথম পদত্যাগের ঘটনা ছিল।

হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি একের পর এক জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন। এর আগে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুও হঠাৎ পদত্যাগ করেছিলেন। এসব ঘটনায় পেন্টাগনের অভ্যন্তরে এক ধরনের অস্বস্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ড্রিসকলের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হেগসেথের জন্য বেশ কঠিন ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা ড্রিসকল সেনাবাহিনীর ‘রূপান্তর ও প্রস্তুতি’ নিয়ে প্রশাসনের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে এই পদত্যাগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশটির সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল সোমবার এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হেগসেথকে নিয়ে কেন পেন্টাগনে আতঙ্ক, কেন তাঁকে নিয়ে অস্বস্তিতে কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি আর যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরান যুদ্ধ নিয়ে হেগসেথকে কেন সন্দেহ করছেন ভ্যান্স, তিনি কি আসলেই ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করছেন। চাকরির আরও তথ্য: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ড্রিসকলের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন আর্মি সেক্রেটারির দায়িত্ব হলো, সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা।