Hi

১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষার মাঝেও পানির সংকট, পাট জাগ দিতে দিশেহারা কুড়িগ্রামের কৃষক

বর্ষা মৌসুম চললেও পর্যাপ্ত পানি নেই কুড়িগ্রামের খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে। ফলে পাট জাগ দিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা। অনেক কৃষককে বাড়ি ও জমির কাছাকাছি পানি না পেয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ। সময়মতো জাগ দিতে না পারায় পাটের আঁশের গুণগত মান নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমির পাট ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে কাটার পর দ্রুত জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না পাওয়ায় অনেক কৃষক সমস্যায় পড়েছেন।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না থাকায় কেউ জমির পাশে, কেউ সড়কের ধারে আবার কেউ জলাশয়ের পাড়ে পাটের আঁটি স্তূপ করে রেখেছেন। দীর্ঘ সময় পাট এভাবে পড়ে থাকায় আঁশের স্বাভাবিক রং ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকার কৃষক আব্দুল মমিন ও বাবু মিয়া বলেন, আগে বাড়ির পাশের খালেই সহজে পাট জাগ দেওয়া যেত। কিন্তু এবার অনেক খাল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি নেই। যেসব জলাশয়ে পানি রয়েছে, সেখানেও অন্যের পাট জাগ দিতে অনেকেই আগ্রহী নন। ফলে দূরের জায়গায় পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, “পাট কাটার পর দ্রুত জাগ দিতে না পারায় সমস্যায় পড়েছি। পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে ভালো মানের আঁশ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হতো। বর্তমানে তা কমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। পানির সংকটসহ নানা কারণে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজারহাট আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। কখনো বৃষ্টির পরিমাণ কমছে, আবার কখনো অস্বাভাবিক সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি জমছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে।

এদিকে কৃষি কার্যালয় কৃষকদের সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে পানির সংকট মোকাবিলা করে পাটের আঁশের গুণগত মান ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।

জনপ্রিয়

বর্ষার মাঝেও পানির সংকট, পাট জাগ দিতে দিশেহারা কুড়িগ্রামের কৃষক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বর্ষার মাঝেও পানির সংকট, পাট জাগ দিতে দিশেহারা কুড়িগ্রামের কৃষক

আপডেট : ১০:০৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বর্ষা মৌসুম চললেও পর্যাপ্ত পানি নেই কুড়িগ্রামের খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে। ফলে পাট জাগ দিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা। অনেক কৃষককে বাড়ি ও জমির কাছাকাছি পানি না পেয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ। সময়মতো জাগ দিতে না পারায় পাটের আঁশের গুণগত মান নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমির পাট ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে কাটার পর দ্রুত জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না পাওয়ায় অনেক কৃষক সমস্যায় পড়েছেন।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না থাকায় কেউ জমির পাশে, কেউ সড়কের ধারে আবার কেউ জলাশয়ের পাড়ে পাটের আঁটি স্তূপ করে রেখেছেন। দীর্ঘ সময় পাট এভাবে পড়ে থাকায় আঁশের স্বাভাবিক রং ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকার কৃষক আব্দুল মমিন ও বাবু মিয়া বলেন, আগে বাড়ির পাশের খালেই সহজে পাট জাগ দেওয়া যেত। কিন্তু এবার অনেক খাল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি নেই। যেসব জলাশয়ে পানি রয়েছে, সেখানেও অন্যের পাট জাগ দিতে অনেকেই আগ্রহী নন। ফলে দূরের জায়গায় পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, “পাট কাটার পর দ্রুত জাগ দিতে না পারায় সমস্যায় পড়েছি। পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে ভালো মানের আঁশ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হতো। বর্তমানে তা কমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। পানির সংকটসহ নানা কারণে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজারহাট আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। কখনো বৃষ্টির পরিমাণ কমছে, আবার কখনো অস্বাভাবিক সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি জমছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে।

এদিকে কৃষি কার্যালয় কৃষকদের সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে পানির সংকট মোকাবিলা করে পাটের আঁশের গুণগত মান ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।