বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রকাশিত সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত এই নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই অতি বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এই সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়া এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিয়মিত বিরতিতে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে বলে জানিয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করায় জেলে ও সাধারণ মানুষকে সতর্কতার সাথে চলাচল করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 























