জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সৃষ্ট সংঘর্ষের রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণার কারণে নতুন করে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এসব কর্মসূচির ফলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ৫ আগস্ট মধ্যরাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ছাত্রসংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দফায় দফায় উত্তেজনা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে প্রক্টরকে অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও প্ল্যাটফর্ম ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়ায় পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। রোববার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ফল উৎসবের কর্মসূচি নির্ধারিত থাকলেও নিরাপত্তার কথা বলে তা বাতিল করে প্রক্টর অফিস। তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমতি না পেলেও তারা ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রক্টরকে অপমানিত করার প্রতিবাদের পাশাপাশি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেবেন। অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারাও ক্যাম্পাসে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম ‘আলফা সানডে’ ব্যানারে ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে জমায়েতের ডাক দিয়েছে। তাদের স্লোগানে ছাত্রসংগঠনগুলোর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সংঘাতের কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এসব পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনগুলোর তৎপরতায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি বা দাবি আদায়ের আন্দোলন স্বাভাবিক হলেও পরীক্ষার সময়ে এ ধরনের থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনাকর পরিবেশ তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বারবার বলা হলেও শিক্ষার্থীরা মনে করছেন মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা আরও দৃশ্যমান হওয়া উচিত। ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী আলী উল আজিম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো সংঘর্ষের রেশ রয়ে গেছে এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন চান।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রক্টর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিলের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল থাকবে। ছাত্রদলের ফল উৎসবসহ অন্যান্য অননুমোদিত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। প্রধান ফটকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং পরিচয়পত্র নিশ্চিত করেই কেবল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেকোনো মূলფে ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
রিপোর্টার নাম: 




















