Hi

১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুমের অভিযোগ ও তদন্তের নতুন আইন: স্বাধীন অনুসন্ধানের দাবি ও বাস্তবতা

বাগেরহাটের মোংলার বাসিন্দা মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি এখনো অমীমাংসিত। পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে যান। যদিও কোস্টগার্ড শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ঘটনার পর সাধারণ ডায়েরি, সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও মিরাজের কোনো সন্ধান পায়নি তাঁর পরিবার। তাঁর বাবা উচ্চ আদালতে গেলে গত ১২ জুলাই হাইকোর্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিরাজকে খুঁজে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। তবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে চার মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি।

২৫ আগস্ট সচিবালয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। তবে মিরাজ শেখের মতো ঘটনাগুলো গুমের তদন্ত নিয়ে পুরোনো প্রশ্নটি পুনরায় সামনে এনেছে—রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত করবে কে? সংসদে উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ ঘিরে এই প্রশ্নটি এখন আরও জোরালো হয়েছে।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ তদন্তের মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে। কমিশন চাইলে যেকোনো গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারত। কিন্তু নতুন বিলে সেই কাঠামো বদলে ফেলা হয়েছে। যদিও নতুন বিলে বলা হয়েছে, কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনী নিজে তদন্ত করতে পারবে না, তবুও তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে সংশয় কাটছে না। কারণ, তদন্তকারী সংস্থা বা দল অভিযুক্ত বাহিনীর বাইরে হলেও তারা রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোর মধ্যেই থাকবে এবং কে তদন্ত করবে, তা নির্ধারণ করবে সরকারই।

আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার আগে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ’। একই দিনে গুম থেকে প্রত্যেক মানুষের সুরক্ষা-সম্পর্কিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরেই ১০টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যা পরবর্তী বছরগুলোতে বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিশন ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখছে।

কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রায় ১ হাজার ২৮২ জন কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর গোপন আটকের পর ফিরে এসেছেন। ২৫১ জন এখনো ফেরেননি এবং আরও ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাস্তবে গুমের সংখ্যা ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেড় হাজারের বেশি অভিযোগের মধ্যে মাত্র ২৫০টির মতো ঘটনার নথিগত প্রমাণ পাওয়া গেছে। কমিশনের অনুসন্ধানে র‍্যাব, পুলিশ, ডিবি ও সিটিটিসির সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর জারি করা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী, গুমের অভিযোগ সরাসরি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে করা যেত এবং কমিশনকে কারাগার বা আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিধানও ছিল। তবে সাংবিধানিক সময়সীমা শেষ হওয়ায় অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারায়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ২৭ আগস্ট সংসদে নতুন বিল উত্থাপন করে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বিলটি পর্যালোচনার জন্য মাত্র এক দিন সময় দেওয়াকে ‘প্রহসনমূলক’ বলে সমালোচনা করেছে।

সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলে গুমকে আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ গুমের সাজা সর্বনিম্ন তিন বছর থেকে যাবজ্জীবন এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গোপন আটককেন্দ্র পরিচালনা বা সহায়তার জন্য শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তবে গুমের ঘটনার শুরুতে ভুক্তভোগী পরিবার সাধারণত নিশ্চিত হতে পারে না কোন বাহিনী তাদের তুলে নিয়েছে, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের সাদাপোশাকে তুলে নেওয়া হয়। ফলে অভিযুক্ত বাহিনীকে তদন্ত থেকে বাদ দেওয়ার বিধানটি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, গুমের খবর পাওয়া মাত্রই আনুষ্ঠানিক মামলার অপেক্ষা না করে অনুসন্ধান শুরু করা উচিত। গুম হওয়া ব্যক্তিকে খোঁজা আর অপরাধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত এক বিষয় নয়। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সনদের ১২(১) অনুচ্ছেদেও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মিরাজ শেখের মতো ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৪ আগস্টও পরিবার জানিয়েছে, সাড়ে চার মাস ধরে তাঁর অবস্থান অজানা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও গোপন আটককেন্দ্র বা বন্দিশালা আছে সন্দেহ হলে কমিশন সেখানে যেতে পারত। চাকরির আরও তথ্য: কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বা সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলকে দায়িত্ব দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুমের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে সম্ভাব্য অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন একটি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের যে ব্যবস্থা ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল, নতুন বিলে তা নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুম করে কীভাবে রাখা হয়েছিল, নিজের বয়ানে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের হিসাবে, ২০০৯ সালে দলটি ক্ষমতায় আসার বছরেই ১০টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়; ২০১০ সালে তা বেড়ে হয় ৩৪টি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই বছরের ২৫ জুন বিএনপি নেতা ও ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলম নিখোঁজ হলে রাজনৈতিক গুমের ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৩-১৪ সালের দিকে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকে।

জনপ্রিয়

গুমের বিচার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী আইন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গুমের অভিযোগ ও তদন্তের নতুন আইন: স্বাধীন অনুসন্ধানের দাবি ও বাস্তবতা

আপডেট : ১০:০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

বাগেরহাটের মোংলার বাসিন্দা মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি এখনো অমীমাংসিত। পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে যান। যদিও কোস্টগার্ড শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ঘটনার পর সাধারণ ডায়েরি, সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও মিরাজের কোনো সন্ধান পায়নি তাঁর পরিবার। তাঁর বাবা উচ্চ আদালতে গেলে গত ১২ জুলাই হাইকোর্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিরাজকে খুঁজে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। তবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে চার মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি।

২৫ আগস্ট সচিবালয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। তবে মিরাজ শেখের মতো ঘটনাগুলো গুমের তদন্ত নিয়ে পুরোনো প্রশ্নটি পুনরায় সামনে এনেছে—রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত করবে কে? সংসদে উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ ঘিরে এই প্রশ্নটি এখন আরও জোরালো হয়েছে।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ তদন্তের মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে। কমিশন চাইলে যেকোনো গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারত। কিন্তু নতুন বিলে সেই কাঠামো বদলে ফেলা হয়েছে। যদিও নতুন বিলে বলা হয়েছে, কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনী নিজে তদন্ত করতে পারবে না, তবুও তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে সংশয় কাটছে না। কারণ, তদন্তকারী সংস্থা বা দল অভিযুক্ত বাহিনীর বাইরে হলেও তারা রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোর মধ্যেই থাকবে এবং কে তদন্ত করবে, তা নির্ধারণ করবে সরকারই।

আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার আগে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ’। একই দিনে গুম থেকে প্রত্যেক মানুষের সুরক্ষা-সম্পর্কিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরেই ১০টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যা পরবর্তী বছরগুলোতে বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিশন ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখছে।

কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রায় ১ হাজার ২৮২ জন কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর গোপন আটকের পর ফিরে এসেছেন। ২৫১ জন এখনো ফেরেননি এবং আরও ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাস্তবে গুমের সংখ্যা ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেড় হাজারের বেশি অভিযোগের মধ্যে মাত্র ২৫০টির মতো ঘটনার নথিগত প্রমাণ পাওয়া গেছে। কমিশনের অনুসন্ধানে র‍্যাব, পুলিশ, ডিবি ও সিটিটিসির সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর জারি করা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী, গুমের অভিযোগ সরাসরি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে করা যেত এবং কমিশনকে কারাগার বা আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিধানও ছিল। তবে সাংবিধানিক সময়সীমা শেষ হওয়ায় অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারায়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ২৭ আগস্ট সংসদে নতুন বিল উত্থাপন করে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বিলটি পর্যালোচনার জন্য মাত্র এক দিন সময় দেওয়াকে ‘প্রহসনমূলক’ বলে সমালোচনা করেছে।

সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলে গুমকে আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ গুমের সাজা সর্বনিম্ন তিন বছর থেকে যাবজ্জীবন এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গোপন আটককেন্দ্র পরিচালনা বা সহায়তার জন্য শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তবে গুমের ঘটনার শুরুতে ভুক্তভোগী পরিবার সাধারণত নিশ্চিত হতে পারে না কোন বাহিনী তাদের তুলে নিয়েছে, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের সাদাপোশাকে তুলে নেওয়া হয়। ফলে অভিযুক্ত বাহিনীকে তদন্ত থেকে বাদ দেওয়ার বিধানটি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, গুমের খবর পাওয়া মাত্রই আনুষ্ঠানিক মামলার অপেক্ষা না করে অনুসন্ধান শুরু করা উচিত। গুম হওয়া ব্যক্তিকে খোঁজা আর অপরাধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত এক বিষয় নয়। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সনদের ১২(১) অনুচ্ছেদেও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মিরাজ শেখের মতো ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৪ আগস্টও পরিবার জানিয়েছে, সাড়ে চার মাস ধরে তাঁর অবস্থান অজানা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও গোপন আটককেন্দ্র বা বন্দিশালা আছে সন্দেহ হলে কমিশন সেখানে যেতে পারত। চাকরির আরও তথ্য: কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বা সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলকে দায়িত্ব দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুমের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে সম্ভাব্য অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন একটি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের যে ব্যবস্থা ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল, নতুন বিলে তা নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুম করে কীভাবে রাখা হয়েছিল, নিজের বয়ানে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের হিসাবে, ২০০৯ সালে দলটি ক্ষমতায় আসার বছরেই ১০টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়; ২০১০ সালে তা বেড়ে হয় ৩৪টি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই বছরের ২৫ জুন বিএনপি নেতা ও ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলম নিখোঁজ হলে রাজনৈতিক গুমের ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৩-১৪ সালের দিকে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকে।