Hi

০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খোকসায় বিএনপির সাবেক নেতা নাফিজ আহমেদ খানের ওপর নৃশংস হামলা: মেয়র নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০১:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ জন দেখেছে

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাফিজ আহমেদ খান নিজ বাড়ির সামনে এক বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। গতকাল বুধবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত চাপাতি ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাফিজ আহমেদ খোকসা পৌরসভার প্রয়াত মেয়র আনোয়ার আহম্মেদ তাঁতারীর সন্তান হওয়ায় এই হামলার ঘটনা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র মতে, খোকসা শহরের থানাপাড়া এলাকার নিজ বাসভবনের সামনে হামলাকারীরা নাফিজ আহমেদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো চাপাতি ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। নৃশংসভাবে মারধরের পর দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির লোহার গেটে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় চরম ত্রাস সৃষ্টি করে। এরপর দুটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলে করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

গুরুতর আহত অবস্থায় নাফিজ আহমেদকে তাৎক্ষণিকভাবে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা বেশ গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাফিজ আহমেদকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার ডান পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর রক্তাক্ত জখম রয়েছে। এছাড়াও, তার ডান হাতের বাহুর দুটি হাড় এবং বাঁ হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।

হামলার শিকার বিএনপি নেতা নাফিজ আহমেদ খান হাসপাতাল থেকে দেওয়া তার বক্তব্যে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, গতকাল রাতে দলীয় কার্যালয়ের কাজ শেষে তিনি বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে তিনি কয়েকজন অপরিচিত যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তিনি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা উল্টো তার পরিচয় জানতে চায়। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা চাপাতি ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।

এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন নাফিজ আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, “সামনে খোকসা পৌরসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনে আমি যাতে মেয়র প্রার্থী হতে না পারি, সে উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগের দোসর সন্ত্রাসীরা আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য এই হামলা চালিয়েছে।” তার এই অভিযোগ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

নাফিজ আহমেদের একমাত্র সন্তান ইফতারিনা খানও ঘটনার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বুধবার রাতে ঘটনার সময় আমি বাড়িতেই ছিলাম। বাবার চিৎকার শুনে বাড়ির গেটের সামনে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি, বাবার শরীরে এলোপাতাড়ি কোপের চিহ্ন। সন্ত্রাসীরা শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়।” পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন এই হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশি অভিযান চলছে। ওসি আরও বলেন, তারা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন এবং নাফিজ আহমেদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর ওপর এমন নৃশংস হামলা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয়

‘জুলাই যোদ্ধা’ আহসান হাবিবের মর্যাদা নিয়ে বিতর্ক: বিএনপির দাবি প্রত্যাখ্যান জামায়াতের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

খোকসায় বিএনপির সাবেক নেতা নাফিজ আহমেদ খানের ওপর নৃশংস হামলা: মেয়র নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কা

আপডেট : ০১:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাফিজ আহমেদ খান নিজ বাড়ির সামনে এক বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। গতকাল বুধবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত চাপাতি ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাফিজ আহমেদ খোকসা পৌরসভার প্রয়াত মেয়র আনোয়ার আহম্মেদ তাঁতারীর সন্তান হওয়ায় এই হামলার ঘটনা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র মতে, খোকসা শহরের থানাপাড়া এলাকার নিজ বাসভবনের সামনে হামলাকারীরা নাফিজ আহমেদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো চাপাতি ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। নৃশংসভাবে মারধরের পর দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির লোহার গেটে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় চরম ত্রাস সৃষ্টি করে। এরপর দুটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলে করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

গুরুতর আহত অবস্থায় নাফিজ আহমেদকে তাৎক্ষণিকভাবে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা বেশ গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাফিজ আহমেদকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার ডান পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর রক্তাক্ত জখম রয়েছে। এছাড়াও, তার ডান হাতের বাহুর দুটি হাড় এবং বাঁ হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।

হামলার শিকার বিএনপি নেতা নাফিজ আহমেদ খান হাসপাতাল থেকে দেওয়া তার বক্তব্যে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, গতকাল রাতে দলীয় কার্যালয়ের কাজ শেষে তিনি বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে তিনি কয়েকজন অপরিচিত যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তিনি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা উল্টো তার পরিচয় জানতে চায়। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা চাপাতি ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।

এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন নাফিজ আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, “সামনে খোকসা পৌরসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনে আমি যাতে মেয়র প্রার্থী হতে না পারি, সে উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগের দোসর সন্ত্রাসীরা আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য এই হামলা চালিয়েছে।” তার এই অভিযোগ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

নাফিজ আহমেদের একমাত্র সন্তান ইফতারিনা খানও ঘটনার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বুধবার রাতে ঘটনার সময় আমি বাড়িতেই ছিলাম। বাবার চিৎকার শুনে বাড়ির গেটের সামনে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি, বাবার শরীরে এলোপাতাড়ি কোপের চিহ্ন। সন্ত্রাসীরা শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়।” পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন এই হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশি অভিযান চলছে। ওসি আরও বলেন, তারা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন এবং নাফিজ আহমেদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর ওপর এমন নৃশংস হামলা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।