Hi

১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনো চাপ নেই, কাজ করার সুযোগ দিন: নবনিযুক্ত দুদক চেয়ারম্যান

দীর্ঘ ১৬৮ দিন শীর্ষ পদগুলো শূন্য থাকার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। বুধবার সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ থেকে আমাদের কার্যক্রম শুরু হলো। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশের সেবা করা এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

রাজনৈতিক সরকারের আমলে দুদকের স্বাধীনতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিচারপতি আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান কমিশনের ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই। নতুন কমিশনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, কাজ শুরু করার পরই তারা পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার তদন্ত, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সামনে আসা অনিয়মের অভিযোগ এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জানান, তারা এখনো কোনো ফাইল হাতে পাননি। তিনি বলেন, ‘মাত্রই দায়িত্ব নিলাম। ফাইলগুলো আসুক, আমরা কী করি তা আপনারা দেখতে পাবেন।’

নির্দিষ্ট কোনো মামলা বা অভিযোগ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে চাই না। এখন কোনো কথা দিয়ে পরে তা বাস্তবায়ন করতে না পারলে আপনারা আমাদের জবাবদিহির মুখোমুখি করবেন। তাই আমাদের কাজ করার সুযোগ দিন।’

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং অর্থপাচার রোধের বিষয়ে চেয়ারম্যান জানান, কমিশন নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবে। এ বিষয়ে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। নবনিযুক্ত কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এ সময় যোগ করেন, তারা কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করবেন।

কমিশনের আরেক সদস্য ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, অভিজ্ঞ বিচারকের নেতৃত্বে কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

দুর্নীতি দমনে সাধারণ মানুষের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মানুষের উচিত আমরা কী করছি তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা। আশা করি জনগণের প্রত্যাশা ভঙ্গ হবে না।’ উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদানপত্র জমা দেওয়ার পর বুধবার নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জনপ্রিয়

শার্শায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কোনো চাপ নেই, কাজ করার সুযোগ দিন: নবনিযুক্ত দুদক চেয়ারম্যান

আপডেট : ০৭:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ১৬৮ দিন শীর্ষ পদগুলো শূন্য থাকার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। বুধবার সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ থেকে আমাদের কার্যক্রম শুরু হলো। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশের সেবা করা এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

রাজনৈতিক সরকারের আমলে দুদকের স্বাধীনতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিচারপতি আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান কমিশনের ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই। নতুন কমিশনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, কাজ শুরু করার পরই তারা পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার তদন্ত, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সামনে আসা অনিয়মের অভিযোগ এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জানান, তারা এখনো কোনো ফাইল হাতে পাননি। তিনি বলেন, ‘মাত্রই দায়িত্ব নিলাম। ফাইলগুলো আসুক, আমরা কী করি তা আপনারা দেখতে পাবেন।’

নির্দিষ্ট কোনো মামলা বা অভিযোগ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে চাই না। এখন কোনো কথা দিয়ে পরে তা বাস্তবায়ন করতে না পারলে আপনারা আমাদের জবাবদিহির মুখোমুখি করবেন। তাই আমাদের কাজ করার সুযোগ দিন।’

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং অর্থপাচার রোধের বিষয়ে চেয়ারম্যান জানান, কমিশন নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবে। এ বিষয়ে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। নবনিযুক্ত কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এ সময় যোগ করেন, তারা কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করবেন।

কমিশনের আরেক সদস্য ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, অভিজ্ঞ বিচারকের নেতৃত্বে কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

দুর্নীতি দমনে সাধারণ মানুষের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মানুষের উচিত আমরা কী করছি তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা। আশা করি জনগণের প্রত্যাশা ভঙ্গ হবে না।’ উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদানপত্র জমা দেওয়ার পর বুধবার নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।