Hi

১০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার মিউজিক চার্টে এআই-তৈরি গানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি

অস্ট্রেলিয়ার অফিসিয়াল মিউজিক চার্টে এখন থেকে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি গান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দ্য অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (এআরআইএ) নতুন এই নিয়ম প্রবর্তন করেছে। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, চার্টে জায়গা করে নিতে হলে যেকোনো গানকে অবশ্যই ‘উল্লেখযোগ্যভাবে মানুষের তৈরি’ হতে হবে। শিল্পীদের সৃজনশীলতার মূল ভিত্তি রক্ষা করার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এআরআইএ-এর প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হার্ড। স্থানীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যান্ড ‘পিকিং ডাক’-সহ অনেক শিল্পীই এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

এই নীতি পরিবর্তনের মূলে রয়েছে ডিজে জশ ফাওয়াজের একটি বিতর্কিত কাজ। তিনি ম্যাডোনার বিখ্যাত গান ‘লাইক এ প্রেয়ার’-এর একটি কভার সংস্করণ তৈরি করেছিলেন, যা এআরআইএ ড্যান্স সিঙ্গেলস চার্টের শীর্ষে উঠে আসে এবং মূল চার্টের ২ নম্বর স্থানে জায়গা করে নেয়। স্পোটিফাইতে গানটি ৪৮ মিলিয়নেরও বেশিবার শোনা হয়। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ডিজে ফাওয়াজ স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, গানটি তৈরিতে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরই এআরআইএ তাদের নিয়মাবলীতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

নতুন নিয়মের শর্ত অনুযায়ী, গানের মূল সৃজনশীল অংশ অবশ্যই মানুষের হতে হবে। এর অর্থ হলো, গানটি মানুষের লেখা হতে হবে এবং প্রধান ভোকাল ও বাদ্যযন্ত্র মানুষের মাধ্যমে পরিবেশিত হতে হবে। তবে মাস্টারারিং, ড্রাম মেশিন কিংবা অটো-টিউনের মতো প্রচলিত কাজের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখা যাবে। চার্টের জন্য আবেদন করার সময় শিল্পীদের এআই ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো গান পরে এআই-নির্ভর প্রমাণিত হলে এআরআইএ চার্টের স্থান পরিবর্তন করবে এবং প্রয়োজনে ‘নাম্বার ওয়ান’ ট্রফি বা পুরস্কার ফিরিয়ে নেবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএফপিআই (IFPI)-এর নির্দেশনার আলোকে এই কোড আপডেট করা হয়েছে, যা কৃত্রিমভাবে স্ট্রিম বা চার্ট ম্যানিপুলেশনও রোধ করবে।

সুইডেনের মিউজিক চার্টেও সম্প্রতি একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ শিল্পীদের সুরক্ষায় নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিল্পীদের অনুমতি ছাড়া তাদের কাজ এআই ট্রেনিংয়ে ব্যবহার করা বন্ধ করতে এবং তাদের মালিকানা রক্ষায় সরকার শিগগিরই কঠোর আইন প্রণয়ন করবে।

জনপ্রিয়

পুলিশের ১৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল: ডিআইজি ও এসপি পর্যায়ে বড় পরিবর্তন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অস্ট্রেলিয়ার মিউজিক চার্টে এআই-তৈরি গানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি

আপডেট : ০৬:৪৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার অফিসিয়াল মিউজিক চার্টে এখন থেকে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি গান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দ্য অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (এআরআইএ) নতুন এই নিয়ম প্রবর্তন করেছে। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, চার্টে জায়গা করে নিতে হলে যেকোনো গানকে অবশ্যই ‘উল্লেখযোগ্যভাবে মানুষের তৈরি’ হতে হবে। শিল্পীদের সৃজনশীলতার মূল ভিত্তি রক্ষা করার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এআরআইএ-এর প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হার্ড। স্থানীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যান্ড ‘পিকিং ডাক’-সহ অনেক শিল্পীই এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

এই নীতি পরিবর্তনের মূলে রয়েছে ডিজে জশ ফাওয়াজের একটি বিতর্কিত কাজ। তিনি ম্যাডোনার বিখ্যাত গান ‘লাইক এ প্রেয়ার’-এর একটি কভার সংস্করণ তৈরি করেছিলেন, যা এআরআইএ ড্যান্স সিঙ্গেলস চার্টের শীর্ষে উঠে আসে এবং মূল চার্টের ২ নম্বর স্থানে জায়গা করে নেয়। স্পোটিফাইতে গানটি ৪৮ মিলিয়নেরও বেশিবার শোনা হয়। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ডিজে ফাওয়াজ স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, গানটি তৈরিতে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরই এআরআইএ তাদের নিয়মাবলীতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

নতুন নিয়মের শর্ত অনুযায়ী, গানের মূল সৃজনশীল অংশ অবশ্যই মানুষের হতে হবে। এর অর্থ হলো, গানটি মানুষের লেখা হতে হবে এবং প্রধান ভোকাল ও বাদ্যযন্ত্র মানুষের মাধ্যমে পরিবেশিত হতে হবে। তবে মাস্টারারিং, ড্রাম মেশিন কিংবা অটো-টিউনের মতো প্রচলিত কাজের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখা যাবে। চার্টের জন্য আবেদন করার সময় শিল্পীদের এআই ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো গান পরে এআই-নির্ভর প্রমাণিত হলে এআরআইএ চার্টের স্থান পরিবর্তন করবে এবং প্রয়োজনে ‘নাম্বার ওয়ান’ ট্রফি বা পুরস্কার ফিরিয়ে নেবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএফপিআই (IFPI)-এর নির্দেশনার আলোকে এই কোড আপডেট করা হয়েছে, যা কৃত্রিমভাবে স্ট্রিম বা চার্ট ম্যানিপুলেশনও রোধ করবে।

সুইডেনের মিউজিক চার্টেও সম্প্রতি একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ শিল্পীদের সুরক্ষায় নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিল্পীদের অনুমতি ছাড়া তাদের কাজ এআই ট্রেনিংয়ে ব্যবহার করা বন্ধ করতে এবং তাদের মালিকানা রক্ষায় সরকার শিগগিরই কঠোর আইন প্রণয়ন করবে।