Hi

০২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পথে

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে গত পাঁচ মাস ধরে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার মাধ্যমে এই কৌশলগত জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। একটি মার্কিন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিগগিরই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ওমান। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান এবং ইরান ও আরব বিশ্বের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের কারণে তারা সফলভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে আরোপিত অবরোধ পর্যায়ক্রমে তুলে নেবে। তবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে বলে ওয়াশিংটন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা প্রদান ও শুল্ক আরোপের পাশাপাশি বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) জাহাজগুলোতে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

এই আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, সদস্য কোনো দেশের ওপর হামলা হলে তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, তবুও এটি ইরানের শিয়া বলয়ের প্রভাব মোকাবিলার একটি কৌশলী পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই শান্তি আলোচনার প্রভাব স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কট্টরপন্থীদের তোপের মুখে পড়লেও কূটনীতির পক্ষেই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। চীনের উদাহরণ টেনে তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, সামরিক সংঘাতের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই দেশের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব। যদিও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে তার মতপার্থক্য রয়েছে, তবুও আপাতত সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার পথেই অটল রয়েছেন ইরানি নীতিনির্ধারকরা। ওয়াশিংটন একইসাথে লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয়

দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলার শুনানি পিছিয়েছে

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হরমুজ প্রণালি সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পথে

আপডেট : ০৪:২১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে গত পাঁচ মাস ধরে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার মাধ্যমে এই কৌশলগত জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। একটি মার্কিন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিগগিরই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ওমান। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান এবং ইরান ও আরব বিশ্বের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের কারণে তারা সফলভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে আরোপিত অবরোধ পর্যায়ক্রমে তুলে নেবে। তবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে বলে ওয়াশিংটন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা প্রদান ও শুল্ক আরোপের পাশাপাশি বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) জাহাজগুলোতে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

এই আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, সদস্য কোনো দেশের ওপর হামলা হলে তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, তবুও এটি ইরানের শিয়া বলয়ের প্রভাব মোকাবিলার একটি কৌশলী পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই শান্তি আলোচনার প্রভাব স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কট্টরপন্থীদের তোপের মুখে পড়লেও কূটনীতির পক্ষেই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। চীনের উদাহরণ টেনে তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, সামরিক সংঘাতের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই দেশের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব। যদিও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে তার মতপার্থক্য রয়েছে, তবুও আপাতত সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার পথেই অটল রয়েছেন ইরানি নীতিনির্ধারকরা। ওয়াশিংটন একইসাথে লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে বিবেচিত হচ্ছে।