Hi

০৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামের প্রকোপে দেশে প্রাণহানি ৭২৯, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা

বাংলাদেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সন্দেহভাজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৬৩৬ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৩ জন শিশু। এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহভাজন হামে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৩৯ জন এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৯৬৮ জন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১২ হাজার ৪২৫ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন। সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা এক লাখ তিন হাজার ৯৬১ জনে পৌঁছেছে। এই সময়ে ৮৭ হাজার ২৬২ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে, যার মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৪৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিভাগভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হামের ছোবলে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অঞ্চলে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৭ জন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, সিলেটে তিনজন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে দুজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও সঠিক সময়ে টিকাদান ও সচেতনতার অভাবে এই প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা এই ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। হামের বিস্তার রোধে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, হামের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই শিশুকে আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় নিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কোনোভাবেই যেন কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

নিরাপত্তা শঙ্কায় বাবার জানাজায় থাকছেন না মোজতোবা খামেনি: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হামের প্রকোপে দেশে প্রাণহানি ৭২৯, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা

আপডেট : ০৪:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সন্দেহভাজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৬৩৬ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৩ জন শিশু। এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহভাজন হামে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৩৯ জন এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৯৬৮ জন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১২ হাজার ৪২৫ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন। সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা এক লাখ তিন হাজার ৯৬১ জনে পৌঁছেছে। এই সময়ে ৮৭ হাজার ২৬২ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে, যার মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৪৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিভাগভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হামের ছোবলে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অঞ্চলে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৭ জন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, সিলেটে তিনজন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে দুজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও সঠিক সময়ে টিকাদান ও সচেতনতার অভাবে এই প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা এই ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। হামের বিস্তার রোধে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, হামের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই শিশুকে আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় নিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কোনোভাবেই যেন কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।