Hi

০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা, ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা

হবিগঞ্জ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সময় হামলার শিকার হয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। পূর্বনির্ধারিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ শেষে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এনসিপির গাড়িবহর লক্ষ্য করে হঠাৎ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালকরা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন।

হামলার মুখে পড়ে সারজিস আলম শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। একই সময়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দ্রুত হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে গিয়ে আশ্রয় নেন। সোনালী ব্যাংক চত্বরে সারজিস আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ব্যাংক ভবনটি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পুলিশ প্রহরায় সারজিস আলমকে সার্কিট হাউসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর রাত দশটার দিকে কঠোর পুলিশি প্রটোকলে তিনি ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

এই সহিংস ঘটনার জেরে এনসিপি ও ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে হবিগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছেন। এমনকি সার্কিট হাউসের মতো একটি সংরক্ষিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান দাবি করেছেন যে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছিলেন, যার ফলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার পর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মীরা মশাল ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এছাড়া ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও গভীর রাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

জনপ্রিয়

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়: ওমানের নতুন কূটনীতিতে ইরানের সাড়ার অপেক্ষা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা, ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা

আপডেট : ১১:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সময় হামলার শিকার হয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। পূর্বনির্ধারিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ শেষে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এনসিপির গাড়িবহর লক্ষ্য করে হঠাৎ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালকরা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন।

হামলার মুখে পড়ে সারজিস আলম শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। একই সময়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দ্রুত হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে গিয়ে আশ্রয় নেন। সোনালী ব্যাংক চত্বরে সারজিস আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ব্যাংক ভবনটি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পুলিশ প্রহরায় সারজিস আলমকে সার্কিট হাউসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর রাত দশটার দিকে কঠোর পুলিশি প্রটোকলে তিনি ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

এই সহিংস ঘটনার জেরে এনসিপি ও ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে হবিগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছেন। এমনকি সার্কিট হাউসের মতো একটি সংরক্ষিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান দাবি করেছেন যে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছিলেন, যার ফলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার পর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মীরা মশাল ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এছাড়া ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও গভীর রাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।