Hi

০৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন গবেষক আজম খান

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহারের সম্ভাবনার ওপর জোর দিচ্ছেন প্রবাসী গবেষক আজম খান। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের প্রতিটি খাতে সংস্কারের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্বালানি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এআই প্রযুক্তি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষক আজম খানের মতে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ এবং গ্রিড ব্যবস্থাপনায় অপচয় রোধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে এআইভিত্তিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে বিদ্যুতের চাহিদা পূর্বাভাস (Demand Forecasting), লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, কীভাবে স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে সিস্টেম লস সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের মতো উৎসগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণ করে এআইয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের রূপান্তরে এআইয়ের প্রভাব এখন স্পষ্ট। আজম খান তার গবেষণায় এমন সব মডেল তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা স্থানীয় আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে আরও সহনশীল করে তুলবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি তার আহ্বান, ডিজিটাল প্রযুক্তির এই বিপ্লবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা।

তবে কেবল প্রযুক্তিই সমাধান নয়, এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল ও সঠিক অবকাঠামোগত বিনিয়োগ। আজম খান বিশ্বাস করেন, সঠিক সময়ে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করলে বাংলাদেশ জ্বালানি সাশ্রয়ী একটি স্মার্ট নেশন হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে। তার এই গবেষণা কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং বাস্তবমুখী প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে এক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনই হতে পারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি।

জনপ্রিয়

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প ও সম্ভাবনা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন গবেষক আজম খান

আপডেট : ০৩:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহারের সম্ভাবনার ওপর জোর দিচ্ছেন প্রবাসী গবেষক আজম খান। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের প্রতিটি খাতে সংস্কারের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্বালানি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এআই প্রযুক্তি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষক আজম খানের মতে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ এবং গ্রিড ব্যবস্থাপনায় অপচয় রোধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে এআইভিত্তিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে বিদ্যুতের চাহিদা পূর্বাভাস (Demand Forecasting), লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, কীভাবে স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে সিস্টেম লস সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের মতো উৎসগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণ করে এআইয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের রূপান্তরে এআইয়ের প্রভাব এখন স্পষ্ট। আজম খান তার গবেষণায় এমন সব মডেল তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা স্থানীয় আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে আরও সহনশীল করে তুলবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি তার আহ্বান, ডিজিটাল প্রযুক্তির এই বিপ্লবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা।

তবে কেবল প্রযুক্তিই সমাধান নয়, এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল ও সঠিক অবকাঠামোগত বিনিয়োগ। আজম খান বিশ্বাস করেন, সঠিক সময়ে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করলে বাংলাদেশ জ্বালানি সাশ্রয়ী একটি স্মার্ট নেশন হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে। তার এই গবেষণা কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং বাস্তবমুখী প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে এক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনই হতে পারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি।