Hi

০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় ৩৬ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে নয়ছয়: কাজ শেষ না হতেই ঠিকাদারের পকেটে কোটি কোটি টাকা

বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে গৃহীত ৩৬ কোটি টাকার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কামাল এন্টারপ্রাইজ’কে নিয়মবহির্ভূতভাবে অধিকাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকল্পের তিনটি প্যাকেজের মধ্যে একটির পুরো বিল এবং বাকি দুটির ৭৮ থেকে ৯৬ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে ছাড় করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে অনেক উপকারভোগীর বাড়িতে শুধু প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ফেলে রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো বিল পরিশোধের আগে উপকারভোগীর প্রত্যয়নপত্র, সহায়ক চাঁদা জমার রশিদ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন থাকা বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব শর্তের তোয়াক্কা না করেই এবং কাজের গুণগত মান যাচাই না করেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গোপনে ঠিকাদারকে বিল পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বাড়িতে ট্যাংক, পাইপলাইন বা ফিল্টার বসানো হয়নি, এমনকি নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের কারণে নির্মিত প্ল্যাটফর্মগুলোও ভেঙে পড়ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে, তারা কাজ সম্পন্ন হওয়ার কোনো প্রত্যয়নপত্র দেননি, কারণ তাদের বাড়িতে কাজই সম্পন্ন হয়নি।

তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, ৩৯ নম্বর প্যাকেজের ১১ কোটি ৪৮ লাখ টাকার পুরো বিলই পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ ফালিশাতলী, নলটোনাসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দেড় বছর আগে প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের পর ঠিকাদারের কোনো তৎপরতা নেই। ৩৮ ও ৪০ নম্বর প্যাকেজেও একই চিত্র বিদ্যমান। এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা দায়সারা জবাব দিয়েছেন। সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম বিল পরিশোধের বিষয়ে অস্পষ্টতা প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির অধিকার নিশ্চিত করার এই সরকারি উদ্যোগটি এখন সঠিক তদারকির অভাবে অর্থ লুটপাটের নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সরকারি অর্থের এই হরিলুটের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয়

এক সপ্তাহে সৌদির ৬ বিমানবন্দরে হুথিদের ৭ দফা হামলা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বরগুনায় ৩৬ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে নয়ছয়: কাজ শেষ না হতেই ঠিকাদারের পকেটে কোটি কোটি টাকা

আপডেট : ০৪:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে গৃহীত ৩৬ কোটি টাকার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কামাল এন্টারপ্রাইজ’কে নিয়মবহির্ভূতভাবে অধিকাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকল্পের তিনটি প্যাকেজের মধ্যে একটির পুরো বিল এবং বাকি দুটির ৭৮ থেকে ৯৬ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে ছাড় করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে অনেক উপকারভোগীর বাড়িতে শুধু প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ফেলে রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো বিল পরিশোধের আগে উপকারভোগীর প্রত্যয়নপত্র, সহায়ক চাঁদা জমার রশিদ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন থাকা বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব শর্তের তোয়াক্কা না করেই এবং কাজের গুণগত মান যাচাই না করেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গোপনে ঠিকাদারকে বিল পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বাড়িতে ট্যাংক, পাইপলাইন বা ফিল্টার বসানো হয়নি, এমনকি নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের কারণে নির্মিত প্ল্যাটফর্মগুলোও ভেঙে পড়ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে, তারা কাজ সম্পন্ন হওয়ার কোনো প্রত্যয়নপত্র দেননি, কারণ তাদের বাড়িতে কাজই সম্পন্ন হয়নি।

তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, ৩৯ নম্বর প্যাকেজের ১১ কোটি ৪৮ লাখ টাকার পুরো বিলই পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ ফালিশাতলী, নলটোনাসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দেড় বছর আগে প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের পর ঠিকাদারের কোনো তৎপরতা নেই। ৩৮ ও ৪০ নম্বর প্যাকেজেও একই চিত্র বিদ্যমান। এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা দায়সারা জবাব দিয়েছেন। সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম বিল পরিশোধের বিষয়ে অস্পষ্টতা প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির অধিকার নিশ্চিত করার এই সরকারি উদ্যোগটি এখন সঠিক তদারকির অভাবে অর্থ লুটপাটের নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সরকারি অর্থের এই হরিলুটের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।