Hi

০২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবলের ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ড কাপ’ কিলিয়ান এমবাপ্পে: মাঠের জাদুকরের অজানা ৭ গল্প

আধুনিক ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাঠের ভেতরে তিনি যেমন অপ্রতিরোধ্য, মাঠের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ও জীবনদর্শন সমানভাবে আকর্ষণীয়। ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বকাপ মাতানো এই ফরোয়ার্ডকে অনেকেই এখন ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ড কাপ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলা এমবাপ্পের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান রীতিমতো বিস্ময়কর। তবে বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই অসামান্য সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক নিরলস পরিশ্রম ও অনন্য মানসিকতার গল্প।

এমবাপ্পের মানবিক দিকটি ফুটে ওঠে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে। সেবার শিরোপা জয়ের পর টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত প্রায় ৪ লাখ ইউরোর পুরো অর্থ তিনি শিশুদের দাতব্য সংস্থা ‘প্রিমিয়ার্স দ্য কোর্দে’-কে দান করে দিয়েছিলেন। এমন উদারতা তাঁকে ফুটবল ভক্তদের কাছে কেবল একজন তারকা হিসেবে নয়, বরং একজন আদর্শ মানুষ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং ফেরারিসহ অন্তত ১০টি দামি স্পোর্টস কারের মালিক হওয়া সত্ত্বেও এমবাপ্পে অনেক দেরিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়েছেন; এর আগে ব্যক্তিগত শফারের সাহায্যেই তিনি যাতায়াত করতেন।

সংগীতের প্রতিও তাঁর ছোটবেলার অনুরাগ ছিল প্রবল। মাত্র ৫ বছর বয়সে ফরাসি কিংবদন্তি গায়ক শার্ল আজনাভুরের গানের লিরিক্স মুখস্থ বলা এবং বাঁশি বাজানোর দক্ষতা তাঁর শৈশবের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়। পারিবারিক বন্ধনের ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত সচেতন; প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজের দাদি ক্রিস্টিনের সাথে কথা বলা তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তাঁর সিগনেচার গোল সেলিব্রেশনটি মূলত তাঁর ছোট ভাই ইথানের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত, যা ফিফা ভিডিও গেম খেলার সময় ইথান প্রথম প্রদর্শন করেছিলেন।

এমবাপ্পের শিকড় আলজেরিয়া ও ক্যামেরুনের সাথে মিশে থাকলেও তিনি ফ্রান্সকেই বেছে নিয়েছেন নিজের খেলার মাঠ হিসেবে। শৈশবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অন্ধ ভক্ত থাকা এমবাপ্পে নিজের শোবার ঘরের দেয়ালে পর্তুগিজ মহাতারকার পোস্টার সাজিয়ে রাখতেন, যা তাঁকে প্রতিদিন বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখাত। আজকের এমবাপ্পে সেই স্বপ্নকে ছাড়িয়ে নিজেই এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। তাঁর এই বর্ণিল জীবন ও অসামান্য ফুটবল প্রতিভা তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।

জনপ্রিয়

প্রেক্ষাপট: নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের রয়েছে অভূতপূর্ব সমর্থন: মাহদী আমিন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফুটবলের ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ড কাপ’ কিলিয়ান এমবাপ্পে: মাঠের জাদুকরের অজানা ৭ গল্প

আপডেট : ০১:২৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

আধুনিক ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাঠের ভেতরে তিনি যেমন অপ্রতিরোধ্য, মাঠের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ও জীবনদর্শন সমানভাবে আকর্ষণীয়। ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বকাপ মাতানো এই ফরোয়ার্ডকে অনেকেই এখন ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ড কাপ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলা এমবাপ্পের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান রীতিমতো বিস্ময়কর। তবে বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই অসামান্য সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক নিরলস পরিশ্রম ও অনন্য মানসিকতার গল্প।

এমবাপ্পের মানবিক দিকটি ফুটে ওঠে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে। সেবার শিরোপা জয়ের পর টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত প্রায় ৪ লাখ ইউরোর পুরো অর্থ তিনি শিশুদের দাতব্য সংস্থা ‘প্রিমিয়ার্স দ্য কোর্দে’-কে দান করে দিয়েছিলেন। এমন উদারতা তাঁকে ফুটবল ভক্তদের কাছে কেবল একজন তারকা হিসেবে নয়, বরং একজন আদর্শ মানুষ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং ফেরারিসহ অন্তত ১০টি দামি স্পোর্টস কারের মালিক হওয়া সত্ত্বেও এমবাপ্পে অনেক দেরিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়েছেন; এর আগে ব্যক্তিগত শফারের সাহায্যেই তিনি যাতায়াত করতেন।

সংগীতের প্রতিও তাঁর ছোটবেলার অনুরাগ ছিল প্রবল। মাত্র ৫ বছর বয়সে ফরাসি কিংবদন্তি গায়ক শার্ল আজনাভুরের গানের লিরিক্স মুখস্থ বলা এবং বাঁশি বাজানোর দক্ষতা তাঁর শৈশবের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়। পারিবারিক বন্ধনের ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত সচেতন; প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজের দাদি ক্রিস্টিনের সাথে কথা বলা তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তাঁর সিগনেচার গোল সেলিব্রেশনটি মূলত তাঁর ছোট ভাই ইথানের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত, যা ফিফা ভিডিও গেম খেলার সময় ইথান প্রথম প্রদর্শন করেছিলেন।

এমবাপ্পের শিকড় আলজেরিয়া ও ক্যামেরুনের সাথে মিশে থাকলেও তিনি ফ্রান্সকেই বেছে নিয়েছেন নিজের খেলার মাঠ হিসেবে। শৈশবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অন্ধ ভক্ত থাকা এমবাপ্পে নিজের শোবার ঘরের দেয়ালে পর্তুগিজ মহাতারকার পোস্টার সাজিয়ে রাখতেন, যা তাঁকে প্রতিদিন বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখাত। আজকের এমবাপ্পে সেই স্বপ্নকে ছাড়িয়ে নিজেই এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। তাঁর এই বর্ণিল জীবন ও অসামান্য ফুটবল প্রতিভা তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।