আধুনিক যুগে প্রযুক্তির অত্যধিক ব্যবহার এবং এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ। সম্প্রতি প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত ১৭৮তম অনলাইন মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী ফলাফল’।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাবা-মা এবং সন্তান উভয়েরই বড় একটি সময় কেটে যায় স্মার্টফোন বা নানা ধরনের ডিভাইসের স্ক্রিনে চোখ রেখে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনায় বলা হয়, সন্তান যখন স্ক্রিন স্ক্রল করায় ব্যস্ত, তখন অনেক অভিভাবকও নিজেদের ফোনে মগ্ন থাকেন। এর ফলে পারিবারিক বন্ধন এবং সন্তানদের মানসিক বিকাশে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এই পরিস্থিতিকে পুরোপুরি নেতিবাচক হিসেবে দেখতে নারাজ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আধুনিক প্রযুক্তি বা ইন্টারনেট কোনোভাবেই শিশুদের শত্রু নয়; বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি তাদের মেধা বিকাশ ও পড়াশোনার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাধ্যম হতে পারে।
প্রযুক্তির সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া বর্তমান যুগে আবশ্যক উল্লেখ করে এই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, মূল সমস্যাটি প্রযুক্তিতে নয়, বরং আমাদের মানসিকতা এবং এর ব্যবহারের ধরনে রয়েছে। শিশুরা প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করছে, নাকি ক্ষতিকর উপায়ে সময় নষ্ট করছে, তার ওপর অভিভাবকদের কড়া নজর রাখতে হবে। প্রযুক্তিকে বিদ্যুতের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনাই করা যায় না, কিন্তু তাই বলে কেউ খোলা বিদ্যুতের তারে হাত দেয় না; বরং প্লাস্টিক দিয়ে তা সুরক্ষিত রাখা হয় এবং সুইচ বা রেগুলেটরের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রযুক্তির ব্যবহারও ঠিক তেমনি অভিভাবকদের বুদ্ধিদীপ্ত উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম এবং রিলস বা শর্টস দেখার ফলে শিশু-কিশোরদের মাঝে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একটানা অনলাইন গেম খেলা বা রাত জেগে স্ক্রিন স্ক্রল করার ফলে শিশুদের সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে এবং আচরণে উগ্রতা বা আক্রমণাত্মক ভাব প্রকাশ পাচ্ছে। এছাড়া সংক্ষিপ্ত ও নেতিবাচক কনটেন্ট দেখার কারণে তাদের রুচিবোধের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই প্রযুক্তিকে বৈরী বা শত্রু না ভেবে এর নিরাপদ ও ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার নাম: 





















