Hi

০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের আক্রমণভাগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: সম্পদ নাকি সময়ের প্রয়োজনে বোঝা?

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। এই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি এটি ছিল বিশ্বকাপে নকআউট পর্যায়ে তার প্রথম গোল। তবে এই গোলটি সত্ত্বেও ফুটবল বিশ্বে নতুন করে শুরু হয়েছে এক তর্কের ঝড়—রোনালদো কি বর্তমান পর্তুগাল দলের জন্য অপরিহার্য সম্পদ, নাকি তার উপস্থিতি এখন দলের গতিশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে?

এনডিটিভির এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল আশানুরূপ নয়। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে তিনি প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে মাত্র একবারই বল স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, আর সেটি ছিল সেই পেনাল্টি কিক। খেলার ৮১ মিনিটে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রোনালদোর এমন বদলি হওয়ার ঘটনা বিরল, যা তার বর্তমান শারীরিক সক্ষমতা ও প্রভাব নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। মজার বিষয় হলো, রোনালদো মাঠ ছাড়ার পরই পর্তুগালের আক্রমণের ধার বহুগুণ বেড়ে যায় এবং যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের গোলটি দলের জয় নিশ্চিত করে।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ তার কৌশলগত সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মিডফিল্ডে বাড়তি শক্তির প্রয়োজন ছিল বলেই তিনি রোনালদোকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কোচ মার্তিনেজের এই সাহসী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে রোনালদোর বিশাল অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলীকে অনেকে এখনও মূল্যবান মনে করেন, আবার অন্যদিকে এক বড় অংশের বিশ্লেষক মনে করছেন যে, রোনালদো এখন আর নব্বই মিনিটজুড়ে সেই আগের মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন না।

পর্তুগাল এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি না, নাকি তাকে সুপার সাব হিসেবে ব্যবহার করবেন—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে দাঁড়িয়ে এটি পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দলের জয়ের জন্য তার গোল করার ক্ষমতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আধুনিক ও দ্রুতগতির ফুটবলের সাথে তাল মিলিয়ে খেলার সামর্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচে মার্তিনেজের পরিকল্পনায় রোনালদো নিজেকে কতটা প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারেন।

জনপ্রিয়

জামায়াতের শরিয়াহ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়: মির্জা ফখরুল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পর্তুগালের আক্রমণভাগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: সম্পদ নাকি সময়ের প্রয়োজনে বোঝা?

আপডেট : ০৫:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। এই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি এটি ছিল বিশ্বকাপে নকআউট পর্যায়ে তার প্রথম গোল। তবে এই গোলটি সত্ত্বেও ফুটবল বিশ্বে নতুন করে শুরু হয়েছে এক তর্কের ঝড়—রোনালদো কি বর্তমান পর্তুগাল দলের জন্য অপরিহার্য সম্পদ, নাকি তার উপস্থিতি এখন দলের গতিশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে?

এনডিটিভির এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল আশানুরূপ নয়। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে তিনি প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে মাত্র একবারই বল স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, আর সেটি ছিল সেই পেনাল্টি কিক। খেলার ৮১ মিনিটে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রোনালদোর এমন বদলি হওয়ার ঘটনা বিরল, যা তার বর্তমান শারীরিক সক্ষমতা ও প্রভাব নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। মজার বিষয় হলো, রোনালদো মাঠ ছাড়ার পরই পর্তুগালের আক্রমণের ধার বহুগুণ বেড়ে যায় এবং যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের গোলটি দলের জয় নিশ্চিত করে।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ তার কৌশলগত সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মিডফিল্ডে বাড়তি শক্তির প্রয়োজন ছিল বলেই তিনি রোনালদোকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কোচ মার্তিনেজের এই সাহসী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে রোনালদোর বিশাল অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলীকে অনেকে এখনও মূল্যবান মনে করেন, আবার অন্যদিকে এক বড় অংশের বিশ্লেষক মনে করছেন যে, রোনালদো এখন আর নব্বই মিনিটজুড়ে সেই আগের মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন না।

পর্তুগাল এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি না, নাকি তাকে সুপার সাব হিসেবে ব্যবহার করবেন—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে দাঁড়িয়ে এটি পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দলের জয়ের জন্য তার গোল করার ক্ষমতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আধুনিক ও দ্রুতগতির ফুটবলের সাথে তাল মিলিয়ে খেলার সামর্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচে মার্তিনেজের পরিকল্পনায় রোনালদো নিজেকে কতটা প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারেন।