Hi

০৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্ক সফর নিয়ে মামদানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহুর

আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মেয়র মামদানি তাঁকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং গ্রেপ্তারের দাবি তুলে মূলত সমাজে ‘ঘৃণা’ ও বিভাজন ছড়াচ্ছেন।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর এই সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্কে কোনো ধরনের স্বাগত জানানো হবে না। যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকরের সরাসরি আইনি এখতিয়ার স্থানীয় প্রশাসনের নেই, তবুও মামদানি বিষয়টি ফেডারেল সরকারের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি শহরবাসীর প্রতিবাদের অধিকারকে সাধুবাদ জানান।

ফক্স নিউজের ওই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, মেয়র মামদানির দায়িত্ব হলো নিউ ইয়র্কের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অভিভাবক হওয়া, অথচ তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ তৈরি করছেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আনা আইসিসির যুদ্ধাপরাধের অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেন নেতানিয়াহু। তিনি আন্তর্জাতিক আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরকে ঘিরে ওঠা কিছু ব্যক্তিগত অনিয়মের অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই আইনি পদক্ষেপগুলো মূল সংকট থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ঘোরানোর একটি চক্রান্তমাত্র।

এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও, মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থনের সুর এখনও স্পষ্ট। ওয়াশিংটন সফরের অংশ হিসেবে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। একইসঙ্গে এই সফরকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রগতিশীল রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতির বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষায় এআই দিয়ে নকলের অভিনব কৌশল, পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নিউইয়র্ক সফর নিয়ে মামদানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহুর

আপডেট : ০৩:২৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মেয়র মামদানি তাঁকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং গ্রেপ্তারের দাবি তুলে মূলত সমাজে ‘ঘৃণা’ ও বিভাজন ছড়াচ্ছেন।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর এই সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্কে কোনো ধরনের স্বাগত জানানো হবে না। যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকরের সরাসরি আইনি এখতিয়ার স্থানীয় প্রশাসনের নেই, তবুও মামদানি বিষয়টি ফেডারেল সরকারের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি শহরবাসীর প্রতিবাদের অধিকারকে সাধুবাদ জানান।

ফক্স নিউজের ওই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, মেয়র মামদানির দায়িত্ব হলো নিউ ইয়র্কের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অভিভাবক হওয়া, অথচ তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ তৈরি করছেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আনা আইসিসির যুদ্ধাপরাধের অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেন নেতানিয়াহু। তিনি আন্তর্জাতিক আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরকে ঘিরে ওঠা কিছু ব্যক্তিগত অনিয়মের অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই আইনি পদক্ষেপগুলো মূল সংকট থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ঘোরানোর একটি চক্রান্তমাত্র।

এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও, মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থনের সুর এখনও স্পষ্ট। ওয়াশিংটন সফরের অংশ হিসেবে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। একইসঙ্গে এই সফরকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রগতিশীল রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতির বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।