ইউরোপীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ‘নর্ড স্ট্রিম’ গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় জার্মানি একটি বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জার্মান কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনের একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে এই নাশকতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পোল্যান্ডে বসবাসরত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২২ সালে বাল্টিক সাগরের তলদেশে রাশিয়ার নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে যে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল, তার সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
জার্মানির ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ভাষ্যমতে, এই নাশকতার পেছনে একটি সুপরিকল্পিত ছক ছিল, যা ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই ঘটনার পর থেকেই রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি তুঙ্গে ওঠে। তবে কিয়েভ শুরু থেকেই এই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে আসছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি সাজানো নাটক বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা হতে পারে।
এই ঘটনাটি ইউক্রেন ও জার্মানির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জার্মানি ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান মিত্র এবং যুদ্ধের শুরু থেকে কিয়েভকে বিশাল পরিমাণ সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। এখন এই তদন্তের ফলাফল যদি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যায়, তবে বার্লিনের নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তদন্ত যত গভীর হবে, ততই এই বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য ও ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার নর্ড স্ট্রিম ১ ও ২ পাইপলাইনে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ফলে সমুদ্রের তলদেশে বিশাল ছিদ্র তৈরি হয়, যার ফলে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সাগরে ছড়িয়ে পড়ে। এই অবকাঠামোটি জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি গ্যাস সরবরাহের প্রধান মাধ্যম ছিল। এই বিস্ফোরণকে অনেক বিশেষজ্ঞই একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এখন জার্মান তদন্তকারী সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে যে, এই ঘটনার পেছনে আর কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল কি না। ইউক্রেনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা কিয়েভের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রিপোর্টার নাম: 























