Hi

১০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের শরিয়াহ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত একটি বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত কোনো প্রথাগত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি রেজিমেন্টেড বা সুশৃঙ্খল ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন, যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে। মির্জা ফখরুল বলেন, শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন জামায়াত লালন করে, তা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক নয়।

জুলাই সনদ বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট রাজনৈতিক সমঝোতা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াত বর্তমানে অভিযোগ তুলছে যে সরকার জুলাই সনদের শর্তাবলি মানছে না। অথচ এই সনদের প্রতিটি পাতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোন রাজনৈতিক দল কোন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং কোন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনে জয়ী দল জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী এই সনদ বাস্তবায়ন করবে। বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এবং তাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংবিধান সংস্কারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতামত প্রদানের জন্য জামায়াতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা গঠনমূলক আলোচনার পথে না গিয়ে ভিন্ন ১১টি দলকে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি পালনের পথ বেছে নিয়েছে। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, জামায়াতের এই কর্মসূচিতে জনগণের উল্লেখযোগ্য কোনো সমর্থন নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম চলাকালে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন মতপার্থক্য নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এমন বিপরীতমুখী অবস্থান সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: অভাব ও হতাশার করুণ পরিণতি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জামায়াতের শরিয়াহ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়: মির্জা ফখরুল

আপডেট : ০৭:৪৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত একটি বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত কোনো প্রথাগত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি রেজিমেন্টেড বা সুশৃঙ্খল ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন, যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে। মির্জা ফখরুল বলেন, শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন জামায়াত লালন করে, তা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক নয়।

জুলাই সনদ বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট রাজনৈতিক সমঝোতা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াত বর্তমানে অভিযোগ তুলছে যে সরকার জুলাই সনদের শর্তাবলি মানছে না। অথচ এই সনদের প্রতিটি পাতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোন রাজনৈতিক দল কোন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং কোন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনে জয়ী দল জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী এই সনদ বাস্তবায়ন করবে। বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এবং তাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংবিধান সংস্কারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতামত প্রদানের জন্য জামায়াতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা গঠনমূলক আলোচনার পথে না গিয়ে ভিন্ন ১১টি দলকে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি পালনের পথ বেছে নিয়েছে। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, জামায়াতের এই কর্মসূচিতে জনগণের উল্লেখযোগ্য কোনো সমর্থন নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম চলাকালে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন মতপার্থক্য নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এমন বিপরীতমুখী অবস্থান সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।