গণতন্ত্রের সুসংহত ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যদি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সত্য প্রকাশ করেন, তবেই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো মজবুত হয়। তিনি সাংবাদিকদের নির্ভীকভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই রাষ্ট্র ও রাজনীতির শুদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর আলোকপাত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশ এখন নতুন একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা মূলত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা। জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, তাদের রাজনৈতিক আদর্শ বাংলাদেশের উদারপন্থী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্মান্ধ নয়, তাই কোনো গোষ্ঠী যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার দল শুরু থেকেই জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে আসছে। নির্বাচন পরবর্তী জয়ী দলের ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার যে প্রতিশ্রুতি, বিএনপি তা অক্ষরে অক্ষরে পালনে বদ্ধপরিকর। সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত এবং রাজপথে ১১-দলীয় জোটের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আলোচনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা রাজপথ বেছে নিয়েছে, যার পেছনে জনগণের কোনো সমর্থন নেই।
পরিশেষে, দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে বিএনপি কখনো পরাজিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। কোনো ধরনের হতাশা প্রশ্রয় না দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিএনপির অবস্থান স্বচ্ছ এবং গঠনমূলক।
রিপোর্টার নাম: 








