Hi

০২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার জালে সিডনি কাবরালের চোখ জুড়ানো শট পেলো ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোল

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর অধ্যায় শেষ হয়েছে কদিন আগে। তবে টুর্নামেন্টের পর্দা নামলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার সিডনি কাবরালের একটি দুর্দান্ত গোল। আর্জেন্টিনার শক্তিশালী রক্ষণ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বাঁ প্রান্ত থেকে তাঁর বাঁকানো রকেট-শট বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, ফুটবল ভক্তদের অনলাইন ভোটে সর্বসম্মতভাবে এই গোলটিই টুর্নামেন্টের সেরা গোলের স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর মধ্য দিয়ে কেপ ভার্দের অভিষেক বিশ্বকাপ মিশনটি রূপকথার মতো আরও বেশি স্মরণীয় হয়ে রইল।

আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এবং জনসংখ্যার বিচারে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ কেপ ভার্দে। চলতি বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে দলটি তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বিশ্ব ফুটবলে এক নতুন চমক সৃষ্টি করেছিল। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো জায়ান্ট দলগুলোর বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়ে একটি ম্যাচেও পরাজয় বারের স্বাদ নেয়নি তারা। অপরাজিত থেকে শেষ বত্রিশের রাউন্ডে নিজেদের জায়গা করে নেয় দেশটি। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে তাদের স্বপ্নযাত্রা থেমে গেলেও সিডনি কাবরালের করা সেই গোলটি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের রটারডামে জন্ম নেওয়া তরুণ এই ফুটবলার ম্যাচ শুরুর আগেই গণমাধ্যমের কাছে নিজের বড় স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির পাশে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলতে চান তিনি। ম্যাচের পর আলোকচিত্রীদের সৌজন্যে সেই স্বপ্নও পূরণ হয়েছিল। তবে মাঠের খেলায় তার চেয়েও বড় চমক উপহার দেন তিনি। তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনোস্পারের এই ডিফেন্ডার নিজের বিস্ময়কর গোলটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ড্রিবল করে ফাঁকা জায়গা পেয়ে তিনি বক্সের বাইরে থেকে লক্ষ্যস্থির করেছিলেন। দুই পায়েই দক্ষ এই ফুটবলার কোনাকুনি শটে বলটি জালে জড়ান, যা বিশ্বাস করতে প্রথমে তাঁর নিজের চোখকেও কষ্ট করতে হয়েছিল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন একটি গোল করার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে কাবরাল জানান, সতীর্থদের উল্লাস দেখার পরই তাঁর উপলব্ধি হয়েছিল কতটা ঐতিহাসিক একটি মুহূর্ত তিনি তৈরি করেছেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বেঞ্জামিন পাভার্দের পর দ্বিতীয় ফুলব্যাক হিসেবে এই বিরল গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এমনকি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুলব্যাক মার্সেলোও ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠিয়ে কাবরালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাঁর শটকেই সেরা হিসেবে ভোট দিয়েছেন বলে জানান এই তরুণ।

সিডনি কাবরালের এই অবিশ্বাস্য উত্থানের পেছনে রয়েছে এক কঠিন সংগ্রামের গল্প। মাত্র তিন বছর আগেও তিনি জার্মানির পঞ্চম সারির ক্লাবে ফুটবল খেলতেন, যখন তাঁর ঘরের জানালায় পর্দার পরিবর্তে টানাতে হতো পলিথিনের ব্যাগ। সেখান থেকে কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে গত জুনে পর্তুগালের বেনফিকা হয়ে তিনি নাম লেখান তুরস্কের ক্লাবে। আর বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রথমবারেই বাজিমাত করে জয় করে নেন বিশ্ববাসীর মন। কাবরালের এই রূপকথার মতো সাফল্য কেবল কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসেই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের রূপরেখায় এক নতুন অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয়

ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপে ফেরার ট্রাম্পের হুমকি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আর্জেন্টিনার জালে সিডনি কাবরালের চোখ জুড়ানো শট পেলো ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোল

আপডেট : ১০:২২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর অধ্যায় শেষ হয়েছে কদিন আগে। তবে টুর্নামেন্টের পর্দা নামলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার সিডনি কাবরালের একটি দুর্দান্ত গোল। আর্জেন্টিনার শক্তিশালী রক্ষণ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বাঁ প্রান্ত থেকে তাঁর বাঁকানো রকেট-শট বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, ফুটবল ভক্তদের অনলাইন ভোটে সর্বসম্মতভাবে এই গোলটিই টুর্নামেন্টের সেরা গোলের স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর মধ্য দিয়ে কেপ ভার্দের অভিষেক বিশ্বকাপ মিশনটি রূপকথার মতো আরও বেশি স্মরণীয় হয়ে রইল।

আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এবং জনসংখ্যার বিচারে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ কেপ ভার্দে। চলতি বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে দলটি তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বিশ্ব ফুটবলে এক নতুন চমক সৃষ্টি করেছিল। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো জায়ান্ট দলগুলোর বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়ে একটি ম্যাচেও পরাজয় বারের স্বাদ নেয়নি তারা। অপরাজিত থেকে শেষ বত্রিশের রাউন্ডে নিজেদের জায়গা করে নেয় দেশটি। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে তাদের স্বপ্নযাত্রা থেমে গেলেও সিডনি কাবরালের করা সেই গোলটি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের রটারডামে জন্ম নেওয়া তরুণ এই ফুটবলার ম্যাচ শুরুর আগেই গণমাধ্যমের কাছে নিজের বড় স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির পাশে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলতে চান তিনি। ম্যাচের পর আলোকচিত্রীদের সৌজন্যে সেই স্বপ্নও পূরণ হয়েছিল। তবে মাঠের খেলায় তার চেয়েও বড় চমক উপহার দেন তিনি। তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনোস্পারের এই ডিফেন্ডার নিজের বিস্ময়কর গোলটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ড্রিবল করে ফাঁকা জায়গা পেয়ে তিনি বক্সের বাইরে থেকে লক্ষ্যস্থির করেছিলেন। দুই পায়েই দক্ষ এই ফুটবলার কোনাকুনি শটে বলটি জালে জড়ান, যা বিশ্বাস করতে প্রথমে তাঁর নিজের চোখকেও কষ্ট করতে হয়েছিল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন একটি গোল করার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে কাবরাল জানান, সতীর্থদের উল্লাস দেখার পরই তাঁর উপলব্ধি হয়েছিল কতটা ঐতিহাসিক একটি মুহূর্ত তিনি তৈরি করেছেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বেঞ্জামিন পাভার্দের পর দ্বিতীয় ফুলব্যাক হিসেবে এই বিরল গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এমনকি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুলব্যাক মার্সেলোও ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠিয়ে কাবরালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাঁর শটকেই সেরা হিসেবে ভোট দিয়েছেন বলে জানান এই তরুণ।

সিডনি কাবরালের এই অবিশ্বাস্য উত্থানের পেছনে রয়েছে এক কঠিন সংগ্রামের গল্প। মাত্র তিন বছর আগেও তিনি জার্মানির পঞ্চম সারির ক্লাবে ফুটবল খেলতেন, যখন তাঁর ঘরের জানালায় পর্দার পরিবর্তে টানাতে হতো পলিথিনের ব্যাগ। সেখান থেকে কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে গত জুনে পর্তুগালের বেনফিকা হয়ে তিনি নাম লেখান তুরস্কের ক্লাবে। আর বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রথমবারেই বাজিমাত করে জয় করে নেন বিশ্ববাসীর মন। কাবরালের এই রূপকথার মতো সাফল্য কেবল কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসেই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের রূপরেখায় এক নতুন অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।