দেশের তরুণ সমাজের সামনে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদকাসক্তি। এই মরণনেশা কেবল একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপন্ন করছে না, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিরসনে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ঢাকার কেরানীগঞ্জে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গত ২৬ জুন বিকেলে সিরাজনগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রথম আলো ট্রাস্ট ও কেরানীগঞ্জ বন্ধুসভার যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে সিরাজনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে ‘মাদককে না বলুন’, ‘জীবনকে ভালোবাসুন’, ‘মাদকাসক্তি একটি ব্যাধি’—এমন বিভিন্ন স্লোগান ফুটে ওঠে, যা স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির বার্তা দেয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তরুণদের মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে হলে তাদের অবসর সময়কে কাজে লাগাতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ না থাকলে তরুণরা সহজেই বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
কেরানীগঞ্জ বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সাইফুল বলেন, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং তাদের প্রতি বাড়তি নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রথম আলোর কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি ইকবাল রতনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মীয় নেতারাও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা একমত পোষণ করেন যে, সচেতনতাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রধান চাবিকাঠি। সামগ্রিকভাবে, কেরানীগঞ্জের এই উদ্যোগটি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 


















