ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট মনিটাইজেশন যেন এক নতুন নেশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষই কনটেন্ট ক্রিয়েশনে ঝুঁকছেন। তবে এই আয়ের মোহ অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ডলার আয়ের আশায় অনেকেই নিজের স্বাভাবিক জীবনধারা বিসর্জন দিয়ে অদ্ভুত সব ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। দিনশেষে দেখা যাচ্ছে, কাঙ্ক্ষিত আয়ের চেয়ে বরং সামাজিক বিদ্রূপ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হারানোর হারই বেশি।
প্রযুক্তিগতভাবে মনিটাইজেশন প্রক্রিয়াটি সহজ মনে হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে কঠোর প্রতিযোগিতা এবং অ্যালগরিদমের জটিল মারপ্যাঁচ। অনেকেই মনে করছেন, কেবল নাচ, গান, কৌতুক বা অদ্ভুত কোনো ঘটনার ভিডিও দিলেই রাতারাতি ডলারের পাহাড় গড়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গুটিকয়েক মানুষের সফলতা দেখে হাজার হাজার মানুষ এই ইঁদুর দৌড়ে শামিল হচ্ছেন, যার ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। ভিক্ষুক সেজে সামাজিক পরীক্ষা বা মাছ বিক্রেতার ছদ্মবেশ ধারণ করার মতো তথাকথিত ‘প্র্যাঙ্ক’ বা ‘এক্সপেরিমেন্ট’ ভিডিওগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মূল ধারায় পরিণত হয়েছে।
এই ভার্চুয়াল প্রতিযোগিতার ফলে ব্যক্তিগত মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রতিটি ভিউ এবং প্রতিটি সেন্টের হিসাব মেলাতে মেলাতে মানুষ তার চারপাশের স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় ডলারের হিসাব করার মতো মানসিক অস্থিরতাও তৈরি হচ্ছে। যখন আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না, তখন অনেকে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হন অথবা ভাইরাল হওয়ার নেশায় কুরুচিপূর্ণ বা বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহী হয়ে ওঠেন।
উপসংহারে বলা যায়, ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ ইতিবাচক হলেও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের নামে অন্ধ অনুকরণ এবং ডলারের পেছনে ছোটার এই প্রবণতা সমাজকে এক ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সৃজনশীলতা ও বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে ভিউ পাওয়ার তাড়না যখন বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা আর বিনোদন থাকে না, বরং এক ধরনের সামাজিক মরীচিকায় পরিণত হয়। প্রকৃত ডিজিটাল স্বাক্ষরতা এবং সুস্থ বিনোদনের চর্চাই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে।
রিপোর্টার নাম: 
























