Hi

১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: অভিযোগ গঠনের পর সোহেলের মুখে নতুন নাম, ‘ডলার’ জড়িত থাকার দাবি

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে, যেখানে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা অভিযোগ গঠনের পর আদালতে এক নতুন নামের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আট বছর বয়সী রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তিও জড়িত। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত এই মামলার বিচার শুরুর জন্য দ্রুত তারিখ নির্ধারণ করেছেন, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

আজ (১ জুন, ২০২৬) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানির পর সোহেল রানাকে এজলাস থেকে বের করে আনার সময় তিনি সাংবাদিকদের সামনে এই দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমারও ভুল আছে, ডলারেরও ভুল আছে। আমি একা না।” আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আইনজীবীদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল আরও বলেন, “আমি ধর্ষণ করিনি, শুধু দেহ টুকরো করেছি। ডলার নামের এক ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে। আমি পাপ করেছি, সেই পাপের শাস্তি দেন।” সোহেলের দাবি অনুযায়ী, রামিসাকে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘ডলার’ তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে, উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে কথা বলা থেকে বিরত রাখেন। তিনি তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন, যা মামলার জটিলতা আরও বৃদ্ধি করেছে।

এর আগে, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় সোহেল ও স্বপ্নাকে আনা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন পল্লবী এলাকায় রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর উভয় অভিযুক্ত নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেস জানান, বিচারক আগামীকাল (২ জুন, ২০২৬) মামলার বিচার শুরুর তারিখ নির্ধারণ করেছেন এবং ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেবেন, যা বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।

গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ওহিদুলজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে সোহেলকে ধর্ষণ, হত্যা এবং আলামত নষ্টের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর সিএমএম আদালত মামলাটি বিচারের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রামিসা, পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী, তার প্রতিবেশী সোহেলের বাড়িতে শিরশ্ছেদ করা অবস্থায় পাওয়া যায়। এই নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরদিন, রামিসার বাবা পল্লবী থানায় এই দম্পতি এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোহেল রামিসাকে প্রলুব্ধ করে তার ঘরে নিয়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণ করে। তদন্তকারীরা জানান, পরে সে রামিসার গলা কেটে ফেলে এবং অপরাধ গোপনের জন্য দেহটি টুকরো করার চেষ্টা করে, যা অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরে।

২০ মে পুলিশ সোহেল ও স্বপ্নাকে ঢাকার আদালতে হাজির করলে আদালত সূত্রে জানা যায়, সোহেল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন। সেই দিনই ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও প্রধান অভিযুক্ত অপরাধ স্বীকার করেছিলেন বলে সেদিন পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ওহিদুলজ্জামান জানিয়েছিলেন। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে ২২ মে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন জরুরি ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, একটি সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরের দিন সরকার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহকে অভিযুক্তদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত প্রতিরক্ষা আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়, যা আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখে।

অভিযুক্ত সোহেল রানার মুখে ‘ডলার’ নামের নতুন ব্যক্তির জড়িত থাকার দাবি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ‘ডলার’ নামের এই ব্যক্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা তদন্তকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে এবং মামলার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। রামিসার পরিবার এবং দেশবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছে, যাতে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পায় এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি লাভ করে।

জনপ্রিয়

খাবারের সঠিক সময় ও হজম প্রক্রিয়া: কোন খাবার হজম হতে কতক্ষণ সময় লাগে?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: অভিযোগ গঠনের পর সোহেলের মুখে নতুন নাম, ‘ডলার’ জড়িত থাকার দাবি

আপডেট : ০২:৫৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে, যেখানে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা অভিযোগ গঠনের পর আদালতে এক নতুন নামের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আট বছর বয়সী রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তিও জড়িত। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত এই মামলার বিচার শুরুর জন্য দ্রুত তারিখ নির্ধারণ করেছেন, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

আজ (১ জুন, ২০২৬) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানির পর সোহেল রানাকে এজলাস থেকে বের করে আনার সময় তিনি সাংবাদিকদের সামনে এই দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমারও ভুল আছে, ডলারেরও ভুল আছে। আমি একা না।” আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আইনজীবীদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল আরও বলেন, “আমি ধর্ষণ করিনি, শুধু দেহ টুকরো করেছি। ডলার নামের এক ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে। আমি পাপ করেছি, সেই পাপের শাস্তি দেন।” সোহেলের দাবি অনুযায়ী, রামিসাকে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘ডলার’ তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে, উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে কথা বলা থেকে বিরত রাখেন। তিনি তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন, যা মামলার জটিলতা আরও বৃদ্ধি করেছে।

এর আগে, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় সোহেল ও স্বপ্নাকে আনা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন পল্লবী এলাকায় রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর উভয় অভিযুক্ত নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেস জানান, বিচারক আগামীকাল (২ জুন, ২০২৬) মামলার বিচার শুরুর তারিখ নির্ধারণ করেছেন এবং ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেবেন, যা বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।

গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ওহিদুলজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে সোহেলকে ধর্ষণ, হত্যা এবং আলামত নষ্টের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর সিএমএম আদালত মামলাটি বিচারের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রামিসা, পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী, তার প্রতিবেশী সোহেলের বাড়িতে শিরশ্ছেদ করা অবস্থায় পাওয়া যায়। এই নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরদিন, রামিসার বাবা পল্লবী থানায় এই দম্পতি এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোহেল রামিসাকে প্রলুব্ধ করে তার ঘরে নিয়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণ করে। তদন্তকারীরা জানান, পরে সে রামিসার গলা কেটে ফেলে এবং অপরাধ গোপনের জন্য দেহটি টুকরো করার চেষ্টা করে, যা অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরে।

২০ মে পুলিশ সোহেল ও স্বপ্নাকে ঢাকার আদালতে হাজির করলে আদালত সূত্রে জানা যায়, সোহেল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন। সেই দিনই ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও প্রধান অভিযুক্ত অপরাধ স্বীকার করেছিলেন বলে সেদিন পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ওহিদুলজ্জামান জানিয়েছিলেন। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে ২২ মে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন জরুরি ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, একটি সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরের দিন সরকার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহকে অভিযুক্তদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত প্রতিরক্ষা আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়, যা আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখে।

অভিযুক্ত সোহেল রানার মুখে ‘ডলার’ নামের নতুন ব্যক্তির জড়িত থাকার দাবি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ‘ডলার’ নামের এই ব্যক্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা তদন্তকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে এবং মামলার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। রামিসার পরিবার এবং দেশবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছে, যাতে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পায় এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি লাভ করে।