Hi

০৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাওসে চীনের গোপন সামরিক ঘাঁটি

লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের বাইরে বান কিউনে চীনের একটি নতুন যৌথ প্রশিক্ষণ ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এই ঘাঁটিতে ইতোমধ্যে হালকা যুদ্ধবিমান ও সামরিক যান মোতায়েন করা হয়েছে, যা রয়টার্সের পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের ৩০ সেপ্টেম্বরের ছবিতে নির্মাণাধীন রানওয়েতে আটটি কে-৮ হালকা যুদ্ধবিমান এবং দুই ডজনের বেশি সহায়ক সামরিক যান দেখা গেছে। এর একদিন আগে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বান কিউনে এই যৌথ প্রশিক্ষণ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ছবিতে দেখা বিমানগুলো হংডু জেএল-৮ বা কে-৮ মডেলের। এই দুই আসনের বিমানগুলো প্রশিক্ষণ এবং হালকা হামলার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং চীন ও লাওসের বিমানবাহিনী উভয়ই এটি ব্যবহার করে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই বিমানগুলো চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে তৈরি করেছে। নতুন এই ঘাঁটির দ্রুত নির্মাণকাজ আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিদেশি সামরিক ঘাঁটি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক র‌্যাচেল ভ্যানডেনব্রিঙ্ক উল্লেখ করেছেন যে, চীন ও লাওসের মধ্যে সীমান্ত এবং রেলপথসহ অবকাঠামোগত যোগাযোগের কারণে বান কিউনের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, নির্মাণকাজ যত এগোবে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ ও জ্বালানি সংরক্ষণ এবং নজরদারি স্থাপনা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি হয়ে উঠবে। এই ধরনের স্থাপনা থাকলে ঘাঁটিটি প্রশিক্ষণের বাইরেও বড় ধরনের সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার নিল মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে রানওয়েটি ছোট হলেও ভবিষ্যতে এটি সম্প্রসারণ করে বড় বিমান, এমনকি গোয়েন্দা ও ইলেকট্রনিক নজরদারি বিমানও পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে। তবে এই ঘাঁটির স্থানটির একটি পুরনো সামরিক ইতিহাস রয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বান কিউনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন বিমানঘাঁটি ছিল, যা ‘লিমা সাইট ৪৪’ নামে পরিচিত ছিল। সিআইএ দ্বারা গোপনে পরিচালিত এয়ার আমেরিয়া এই ঘাঁটি ব্যবহার করত এবং সেখান থেকে হমং যোদ্ধা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পরিবহন করা হতো। এই বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্যাংককে লাওসের দূতাবাস এবং লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

লাওসে চীনের গোপন সামরিক ঘাঁটি

আপডেট : ০৮:১৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের বাইরে বান কিউনে চীনের একটি নতুন যৌথ প্রশিক্ষণ ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এই ঘাঁটিতে ইতোমধ্যে হালকা যুদ্ধবিমান ও সামরিক যান মোতায়েন করা হয়েছে, যা রয়টার্সের পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের ৩০ সেপ্টেম্বরের ছবিতে নির্মাণাধীন রানওয়েতে আটটি কে-৮ হালকা যুদ্ধবিমান এবং দুই ডজনের বেশি সহায়ক সামরিক যান দেখা গেছে। এর একদিন আগে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বান কিউনে এই যৌথ প্রশিক্ষণ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ছবিতে দেখা বিমানগুলো হংডু জেএল-৮ বা কে-৮ মডেলের। এই দুই আসনের বিমানগুলো প্রশিক্ষণ এবং হালকা হামলার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং চীন ও লাওসের বিমানবাহিনী উভয়ই এটি ব্যবহার করে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই বিমানগুলো চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে তৈরি করেছে। নতুন এই ঘাঁটির দ্রুত নির্মাণকাজ আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিদেশি সামরিক ঘাঁটি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক র‌্যাচেল ভ্যানডেনব্রিঙ্ক উল্লেখ করেছেন যে, চীন ও লাওসের মধ্যে সীমান্ত এবং রেলপথসহ অবকাঠামোগত যোগাযোগের কারণে বান কিউনের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, নির্মাণকাজ যত এগোবে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ ও জ্বালানি সংরক্ষণ এবং নজরদারি স্থাপনা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি হয়ে উঠবে। এই ধরনের স্থাপনা থাকলে ঘাঁটিটি প্রশিক্ষণের বাইরেও বড় ধরনের সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার নিল মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে রানওয়েটি ছোট হলেও ভবিষ্যতে এটি সম্প্রসারণ করে বড় বিমান, এমনকি গোয়েন্দা ও ইলেকট্রনিক নজরদারি বিমানও পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে। তবে এই ঘাঁটির স্থানটির একটি পুরনো সামরিক ইতিহাস রয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বান কিউনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন বিমানঘাঁটি ছিল, যা ‘লিমা সাইট ৪৪’ নামে পরিচিত ছিল। সিআইএ দ্বারা গোপনে পরিচালিত এয়ার আমেরিয়া এই ঘাঁটি ব্যবহার করত এবং সেখান থেকে হমং যোদ্ধা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পরিবহন করা হতো। এই বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্যাংককে লাওসের দূতাবাস এবং লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।