ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পবিত্র নগরী মদিনার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ তুলেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার মদিনার এই বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, যা মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে। হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রয়েছে। জোটের দাবি, উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে এই হামলার পেছনে হুতিরাই সরাসরি জড়িত। এক্সপ্লেইনার / কী আছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া পারমাণবিক সমঝোতা স্মারকে।
তবে সৌদি জোটের এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, তারা এই দাবিকে ‘মিথ্যা’ ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে। হুতিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে মক্কায় হামলার যে অভিযোগ সৌদি আরব তুলেছিল, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন মদিনার ঘটনায় মনগড়া গল্পের অবতারণা করছে।
সৌদি জোটের দাবি, হুতিরা ধারাবাহিকভাবে ইসলামের দুই পবিত্র স্থান মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা বিশ্বের মুসলমানদের উসকে দেওয়ার শামিল। পবিত্র স্থান ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর বলে জোট ঘোষণা করেছে।
মদিনার ঘটনার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সৌদি জোট আরও জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের আকাশে হুতিদের ছোড়া চারটি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এছাড়া খামিস মুশাইত ও জিজান শহরের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও আকাশে থাকাকালীন ধ্বংস করা হয়েছে বলে জোট দাবি করেছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর ওপর হুতিদের একটি বড় ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় হুতি যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে চলমান সংঘাতের উত্তাপ বাড়ছে, যার অংশ হিসেবে হুতিদের তৎপরতা দমনে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে এবং ফ্রান্সও এই অঞ্চলে সেনা পাঠানোর বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৌদি-হুতি সংঘাতের পাশাপাশি বেশ কিছু আলোচিত ঘটনা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ মাসের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার বিষয়টি যেমন অর্থনীতিতে উদ্বেগের কারণ হয়েছে, তেমনি ২০২৭ সালের আইসিসি বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণার বিষয়টিও ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার শীর্ষে। এছাড়া অক্টোবরের শেষের দিকে এবং নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর জাপান, তুরস্ক ও সৌদি সফরের সূচি নিয়েও কূটনৈতিক স্তরে আলাপ-আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 


















