Hi

১২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাট ছাড়াই ক্ষেতলালের গ্রামে করলার জমজমাট পাইকারি বাজার

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:২০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের মসজিদের পাশের ফাঁকা জায়গায় গড়ে উঠেছে করলার এক অনন্য পাইকারি বাজার। কোনো সরকারি ইজারা ছাড়াই গত ১৫ বছর ধরে এই গ্রামটি করলা বিক্রির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এই বাজার থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা পাইকাররা কিনছেন। কৃষকরা সরাসরি তাদের খেত থেকে করলা সংগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসেন, যা স্থানীয় পর্যায়ের কৃষিব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বাজারে আসা স্থানীয় কৃষকরা জানান, এখান থেকে তিন কিলোমিটার দূরে চৌমুহনী এবং ছয় কিলোমিটার দূরে ইটাখোলা হাট অবস্থিত। সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে হাট বসার অপেক্ষায় না থেকে গ্রামের এই বাজারে প্রতিদিন সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ পাওয়ায় তাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। এতে সময় বেঁচে যাচ্ছে এবং হাটে নিয়ে যাওয়ার বাড়তি পরিবহন খরচও লাগছে না। কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছেন, যা লাভজনক।

বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এই কেনাবেচার কর্মযজ্ঞ। বাজারের পাশেই ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ী শেড তৈরি করা হয়েছে, যেখানে করলাভর্তি ব্যাগ ও ক্রেট সারি করে রাখা হয়। ব্যবসায়ী বাবু মণ্ডলসহ পাঁচ-ছয়জন পাইকার নিয়মিত এখান থেকে করলা সংগ্রহ করেন। পরদিন সকালবেলা পিকআপে করে এসব করলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মুরশিদুল ইসলামের মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, আশপাশের এলাকায় করলার আবাদ বাড়ায় পাইকাররা নিজেরাই এই গ্রামে আসা শুরু করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি স্থায়ী বাজারে রূপ নেয়।

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পুরো উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ হয়েছে। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাসউদ পারভেজ জানান, বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের এই পাইকারি বাজারটি স্থানীয় কৃষকদের করলার ন্যায্য দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। কোনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই কৃষকের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা এই বাজারটি এখন অত্র অঞ্চলের অন্যতম কৃষি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় ১৫ বছর ধরে গ্রামের ভেতরের এই জায়গাটি করলার পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুপুর থেকেই এখানে জড়ো হতে থাকেন কৃষকেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, করলা বাছাই করে ব্যাগ ও ক্রেটে ভরা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবহনের জন্য পাশে অপেক্ষা করছে পিকআপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের দিন সন্ধ্যায় করলা বিক্রি করা দুই কৃষক পাইকারের কাছ থেকে পাওনা টাকা নিচ্ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁকে সাপ্তাহিক হাটের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হাট ছাড়াই ক্ষেতলালের গ্রামে করলার জমজমাট পাইকারি বাজার

আপডেট : ১০:২০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের মসজিদের পাশের ফাঁকা জায়গায় গড়ে উঠেছে করলার এক অনন্য পাইকারি বাজার। কোনো সরকারি ইজারা ছাড়াই গত ১৫ বছর ধরে এই গ্রামটি করলা বিক্রির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এই বাজার থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা পাইকাররা কিনছেন। কৃষকরা সরাসরি তাদের খেত থেকে করলা সংগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসেন, যা স্থানীয় পর্যায়ের কৃষিব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বাজারে আসা স্থানীয় কৃষকরা জানান, এখান থেকে তিন কিলোমিটার দূরে চৌমুহনী এবং ছয় কিলোমিটার দূরে ইটাখোলা হাট অবস্থিত। সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে হাট বসার অপেক্ষায় না থেকে গ্রামের এই বাজারে প্রতিদিন সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ পাওয়ায় তাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। এতে সময় বেঁচে যাচ্ছে এবং হাটে নিয়ে যাওয়ার বাড়তি পরিবহন খরচও লাগছে না। কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছেন, যা লাভজনক।

বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এই কেনাবেচার কর্মযজ্ঞ। বাজারের পাশেই ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ী শেড তৈরি করা হয়েছে, যেখানে করলাভর্তি ব্যাগ ও ক্রেট সারি করে রাখা হয়। ব্যবসায়ী বাবু মণ্ডলসহ পাঁচ-ছয়জন পাইকার নিয়মিত এখান থেকে করলা সংগ্রহ করেন। পরদিন সকালবেলা পিকআপে করে এসব করলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মুরশিদুল ইসলামের মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, আশপাশের এলাকায় করলার আবাদ বাড়ায় পাইকাররা নিজেরাই এই গ্রামে আসা শুরু করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি স্থায়ী বাজারে রূপ নেয়।

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পুরো উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ হয়েছে। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাসউদ পারভেজ জানান, বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের এই পাইকারি বাজারটি স্থানীয় কৃষকদের করলার ন্যায্য দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। কোনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই কৃষকের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা এই বাজারটি এখন অত্র অঞ্চলের অন্যতম কৃষি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় ১৫ বছর ধরে গ্রামের ভেতরের এই জায়গাটি করলার পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুপুর থেকেই এখানে জড়ো হতে থাকেন কৃষকেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, করলা বাছাই করে ব্যাগ ও ক্রেটে ভরা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবহনের জন্য পাশে অপেক্ষা করছে পিকআপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের দিন সন্ধ্যায় করলা বিক্রি করা দুই কৃষক পাইকারের কাছ থেকে পাওনা টাকা নিচ্ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁকে সাপ্তাহিক হাটের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না।