Hi

০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ত্রের তথ্যদাতাকে সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হবে: এসআরবি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান দিতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে পুরস্কৃত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাহিনীটি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ

উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও এসআরবির পক্ষ থেকে বিশেষ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির যৌথ অভিযানে এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি জানান, খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান নিয়ে গোয়েন্দাদের কাছে প্রাথমিক কিছু তথ্য রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেক সময় অস্ত্র শনাক্ত ও উদ্ধার করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। তাই সাধারণ নাগরিকরা এগিয়ে এলে অপরাধ দমনে সুবিধা হবে।

তথ্যদাতার গোপনীয়তা ও পুরস্কারের নিশ্চয়তা

অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে এসআরবি কর্মকর্তা জানান, কোনো অস্থির সময়ে হয়তো অনেকে থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র নিজের হেফাজতে রেখেছেন, যাদের হয়তো কোনো দুরভিসন্ধি ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে আইনি ভয়ে অনেকেই অস্ত্র ফিরিয়ে দিতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনারা অস্ত্রগুলো যেকোনো একটি নিরাপদ জায়গায় রেখে আমাদের তথ্য দিন। ওই স্থানে কয়টি পিস্তল, রাইফেল বা ম্যাগাজিন আছে—এইটুকু তথ্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা গিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করে আনব। যিনি তথ্য দেবেন, তাকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কৃত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি নমনীয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।”

মোহাম্মদপুরসহ অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি

মোহাম্মদপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এক রাতের মধ্যে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তবে যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেখানে এসআরবি সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযান পরিচালনার জন্য কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং সাইবার নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি মোহাম্মদপুর থেকে অপরাধ নির্মূলের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আপনারা আরেকটু ধৈর্য ধরে আমাদের সহযোগিতা করুন। পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করুন। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই মোহাম্মদপুর থেকে সমস্ত অপরাধ নির্মূল করতে আমরা সক্ষম হবো।”

  • লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জনগণের সহযোগিতা কামনা।
  • তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা ও সরকারি নিয়মে পুরস্কারের ঘোষণা।
  • খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার।
  • অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসআরবি’র সদস্য ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি।
  • মোহাম্মদপুর থেকে অপরাধ নির্মূলে ধৈর্য ও সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান।
জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অস্ত্রের তথ্যদাতাকে সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হবে: এসআরবি

আপডেট : ০৮:০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান দিতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে পুরস্কৃত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাহিনীটি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ

উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও এসআরবির পক্ষ থেকে বিশেষ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির যৌথ অভিযানে এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি জানান, খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান নিয়ে গোয়েন্দাদের কাছে প্রাথমিক কিছু তথ্য রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেক সময় অস্ত্র শনাক্ত ও উদ্ধার করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। তাই সাধারণ নাগরিকরা এগিয়ে এলে অপরাধ দমনে সুবিধা হবে।

তথ্যদাতার গোপনীয়তা ও পুরস্কারের নিশ্চয়তা

অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে এসআরবি কর্মকর্তা জানান, কোনো অস্থির সময়ে হয়তো অনেকে থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র নিজের হেফাজতে রেখেছেন, যাদের হয়তো কোনো দুরভিসন্ধি ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে আইনি ভয়ে অনেকেই অস্ত্র ফিরিয়ে দিতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনারা অস্ত্রগুলো যেকোনো একটি নিরাপদ জায়গায় রেখে আমাদের তথ্য দিন। ওই স্থানে কয়টি পিস্তল, রাইফেল বা ম্যাগাজিন আছে—এইটুকু তথ্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা গিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করে আনব। যিনি তথ্য দেবেন, তাকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কৃত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি নমনীয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।”

মোহাম্মদপুরসহ অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি

মোহাম্মদপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এক রাতের মধ্যে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তবে যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেখানে এসআরবি সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযান পরিচালনার জন্য কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং সাইবার নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি মোহাম্মদপুর থেকে অপরাধ নির্মূলের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আপনারা আরেকটু ধৈর্য ধরে আমাদের সহযোগিতা করুন। পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করুন। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই মোহাম্মদপুর থেকে সমস্ত অপরাধ নির্মূল করতে আমরা সক্ষম হবো।”

  • লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জনগণের সহযোগিতা কামনা।
  • তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা ও সরকারি নিয়মে পুরস্কারের ঘোষণা।
  • খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার।
  • অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসআরবি’র সদস্য ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি।
  • মোহাম্মদপুর থেকে অপরাধ নির্মূলে ধৈর্য ও সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান।