প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। রাজধানীর গুলশানে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাইলেও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একাত্তরের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক জামায়াতকে ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সময়ের রাজনৈতিক দর্শন ও নীতির ভিত্তিতে রাজ্জাক একটি বিবৃতি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মন্ত্রীর মতে, রাজ্জাক সেই সময়ে যে দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের লেখাটি নিছক গবেষণামূলক বা সাহিত্য নয়, বরং এটি একজন মানুষের অভিজ্ঞতালব্ধ জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের ক্ষেত্রে চাপিয়ে দেওয়ার ভ্রান্ত নীতি পরিহার করে বরং সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার যে দর্শন রাজ্জাক প্রস্তাব করেছেন, তা তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
আইনমন্ত্রী জামায়াতের নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, বইটি নিয়ে আলোচনার জন্য দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তাদের অনুপস্থিতি এক ধরণের সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা। গণতান্ত্রিক পরিবেশে যে কেউ বইয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারত, কিন্তু আলোচনার সুযোগ এড়িয়ে যাওয়া তাদের ব্যর্থতা।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এবং এর পরবর্তী সংশোধনীগুলোর প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে যখন আইনটি পার্লামেন্টে পাস করার প্রক্রিয়া চলছিল, তখন বিশেষ কমিটিতে জামায়াতের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। ওই আইনে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল-বদর এবং জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামীর বিরোধিতাকারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। আইনমন্ত্রী আরও জানান, জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের দলের নামটি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছিল। তবে সরকার ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করেনি। শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে বিলটি পাসের সময় জামায়াতের কোনো সদস্য এর বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেননি। এই ঘটনার মাধ্যমেই দলটি একাত্তরের সেই বিতর্কিত ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আলী রীয়াজ, সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই তথ্য তিনি তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসাদুজ্জামান বলেন, ইসলামিক শাসন কায়েম করে চাপিয়ে দেবো, সেটা একটা ভ্রান্ত নীতি, ফ্যালাসি; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠিত হোক, রাষ্ট্র পরিচালিত হোক— সেটাই হবে প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ে ঠিক এইভাবে বিষয়টা এসেছে, আমি দেখলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই বইটা আমার কাছে সাহিত্য মনে হয়নি, গবেষণাধর্মীও মনে হয়নি, এটা একটা জীবন্ত একজন মানুষের এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তার জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তার জীবন দর্শন যেভাবে ছিল— এই বইটা তার একটা রিফ্লেকশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, এখানে জামায়াতের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজকে জামায়াতের যারা মেইনস্ট্রিমের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত, জামাতের যারা লিডারশিপে আছেন— আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন।
রিপোর্টার নাম: 

























