Hi

০৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আসিফ নজরুল

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:৫১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ জন দেখেছে

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত তদন্ত কমিটি ছয় মাসের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে মঙ্গলবার তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে। এই প্রতিবেদনে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটির জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে পুরোপুরি দায়ী করা হয়েছে। একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে একটি পোস্ট দিয়েছেন আসিফ নজরুল।

ফেসবুক বার্তায় আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি মূলত তিনিই নিয়েছিলেন এবং পূর্বেও তিনি এটি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নতুন করে তদন্তের আয়োজন করে তা প্রকাশের উদ্যোগ কেন নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দাবির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই নিরাপত্তাহীনতা এবং দেশের অবমাননার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ।

তৎকালীন উপদেষ্টা জানান, নিরাপত্তার কারণে ভারতে না যাওয়ার বিষয়টি যুক্তিযুক্ত ছিল এবং আইসিসির প্রথম প্রতিবেদনেও এই আশঙ্কার সত্যতা মেলে। ওই প্রতিবেদনে ভারতে তিনটি প্রধান ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছিল—বাংলাদেশের দলে মোস্তাফিজের উপস্থিতি, সমর্থকদের স্বাধীনভাবে যাতায়াত এবং বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপট। এই তথ্য অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতে দল না পাঠিয়ে বিকল্প স্থানে খেলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং এতে কয়েকটি দেশের সমর্থনও পাওয়া গিয়েছিল। তবে আইসিসিতে ভারতীয়দের জোরালো প্রভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি, তা ছাড়া ভারত সরকারের তরফ থেকেও বাংলাদেশ দলকে নেওয়ার কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

নিজের এই সিদ্ধান্তের মূলে দেশের সম্মান রক্ষা, খেলোয়াড় ও দেশের মানুষের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের আগে দেশের ভেতরের পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্দেশ্য কাজ করেছিল বলে জানান আসিফ নজরুল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছোট দেশ হওয়ায় কেউ ইচ্ছেমতো অপমান করবে আর বাংলাদেশ চুপচাপ মেনে নেবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। মাথা নত করে মেনে নেওয়ার বদলে সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বে তিনি বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৬ মাস তদন্তের পর মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি ঘটা করে তদন্ত করে তা প্রকাশের কি এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না।

জনপ্রিয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আসিফ নজরুল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আসিফ নজরুল

আপডেট : ০৯:৫১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত তদন্ত কমিটি ছয় মাসের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে মঙ্গলবার তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে। এই প্রতিবেদনে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটির জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে পুরোপুরি দায়ী করা হয়েছে। একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে একটি পোস্ট দিয়েছেন আসিফ নজরুল।

ফেসবুক বার্তায় আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি মূলত তিনিই নিয়েছিলেন এবং পূর্বেও তিনি এটি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নতুন করে তদন্তের আয়োজন করে তা প্রকাশের উদ্যোগ কেন নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দাবির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই নিরাপত্তাহীনতা এবং দেশের অবমাননার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ।

তৎকালীন উপদেষ্টা জানান, নিরাপত্তার কারণে ভারতে না যাওয়ার বিষয়টি যুক্তিযুক্ত ছিল এবং আইসিসির প্রথম প্রতিবেদনেও এই আশঙ্কার সত্যতা মেলে। ওই প্রতিবেদনে ভারতে তিনটি প্রধান ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছিল—বাংলাদেশের দলে মোস্তাফিজের উপস্থিতি, সমর্থকদের স্বাধীনভাবে যাতায়াত এবং বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপট। এই তথ্য অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতে দল না পাঠিয়ে বিকল্প স্থানে খেলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং এতে কয়েকটি দেশের সমর্থনও পাওয়া গিয়েছিল। তবে আইসিসিতে ভারতীয়দের জোরালো প্রভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি, তা ছাড়া ভারত সরকারের তরফ থেকেও বাংলাদেশ দলকে নেওয়ার কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

নিজের এই সিদ্ধান্তের মূলে দেশের সম্মান রক্ষা, খেলোয়াড় ও দেশের মানুষের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের আগে দেশের ভেতরের পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্দেশ্য কাজ করেছিল বলে জানান আসিফ নজরুল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছোট দেশ হওয়ায় কেউ ইচ্ছেমতো অপমান করবে আর বাংলাদেশ চুপচাপ মেনে নেবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। মাথা নত করে মেনে নেওয়ার বদলে সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বে তিনি বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৬ মাস তদন্তের পর মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি ঘটা করে তদন্ত করে তা প্রকাশের কি এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না।