Hi

০৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের লক্ষ্য সরকারের: সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে সড়ক খাতে ধারাবাহিকভাবে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে প্রয়োগ করা না গেলে কর্মশালাগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকতার অভাব না থাকলেও বাস্তবায়ন ও শেখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, অনুমানের ওপর নির্ভর না করে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সড়ক নির্মাণ ও বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সড়ককে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে না দেখে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। রাস্তা পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেন তিনি।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জন্য একটি বিশেষায়িত বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ওই বিভাগের সদস্যদের সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এছাড়া দায়িত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়। দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহারের মতো বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কারও অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা ভুলের কারণে মানুষের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। এই লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অর্থ বিভাগ, সওজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে একটি নিরাপদ, স্মার্ট ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এই ব্যয়ের বিপরীতে অর্জন কতটা হচ্ছে, সেটিও জনগণের প্রশ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘রাস্তা পর্যাপ্ত না ভাঙা পর্যন্ত প্রকল্প নেওয়া হবে না’—এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ধারার পরিবর্তন না হলে কর্মশালা বা উদ্যোগগুলো প্রত্যাশিত ফল দেবে না।

জনপ্রিয়

শিল্পীদের নিয়ে একের পর এক গুজব: বিব্রত ও অসহায় তারকারা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের লক্ষ্য সরকারের: সেতুমন্ত্রী

আপডেট : ০৬:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে সড়ক খাতে ধারাবাহিকভাবে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে প্রয়োগ করা না গেলে কর্মশালাগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকতার অভাব না থাকলেও বাস্তবায়ন ও শেখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, অনুমানের ওপর নির্ভর না করে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সড়ক নির্মাণ ও বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সড়ককে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে না দেখে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। রাস্তা পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেন তিনি।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জন্য একটি বিশেষায়িত বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ওই বিভাগের সদস্যদের সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এছাড়া দায়িত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়। দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহারের মতো বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কারও অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা ভুলের কারণে মানুষের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। এই লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অর্থ বিভাগ, সওজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে একটি নিরাপদ, স্মার্ট ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এই ব্যয়ের বিপরীতে অর্জন কতটা হচ্ছে, সেটিও জনগণের প্রশ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘রাস্তা পর্যাপ্ত না ভাঙা পর্যন্ত প্রকল্প নেওয়া হবে না’—এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ধারার পরিবর্তন না হলে কর্মশালা বা উদ্যোগগুলো প্রত্যাশিত ফল দেবে না।