হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী ঢলের এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাসুয়াগাড়ি ও আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকা পড়া অনেক কর্মী এখনো জীবিত আছেন বলে উদ্ধারকারী দল ও কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। এখন পর্যন্ত ২৭১ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার, ঘটনার নয় দিন পর ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভোটেশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনো অন্তত ৬৩৯ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। গত সপ্তাহে চীন-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসের ফলে সৃষ্ট তীব্র পানির ঢল, কাদা ও পাথরের তোড়ে প্রকল্পগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার বেগে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতা
- নিখোঁজ কর্মীর সংখ্যা: অন্তত ৬৩৯ জন।
- নিশ্চিত মৃত্যু: ১ হাজার ২৫২ জন।
- ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ: প্রায় ২২ লাখ টন (ইউএনডিপি তথ্য)।
- ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎকেন্দ্র: ১১টি।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভবন, পাথর ও পলিমাটি মিলে প্রায় ২২ লাখ টন ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে, যা সুড়ঙ্গগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাসের বুদ্বুদ বা এয়ার পকেট থাকায় কর্মীরা টিকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, জীবিতদের উদ্ধারের আশা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ অভিযান চলবে। উদ্ধারকাজে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন।
নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের পর্ষদ সদস্য অংশু কিরণ শাহি জানান, রাসুয়াগাড়ি প্রকল্পের একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে ৪৬ জন এখনো জীবিত থাকতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন। সেখানে খাবার ও পানির ব্যবস্থা থাকায় তারা বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিখোঁজ স্বজনদের নিয়ে পরিবারগুলোর উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। দুর্গা গুরুং নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা স্বজনদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।
নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতে ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্যায় এই খাতের মোট উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২০ হাজারের বেশি বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে, যার জন্য প্রায় ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। রাসুয়াগাড়ি ও ত্রিশূলী প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যদিও দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাহাড়ি ঢলটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ মাইল (১৬০ কিমি) বেগে নদী উপত্যকা ধরে ৬০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ দিন পর আজ শুক্রবার ত্রিশূলী–৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ, ওই ভবনের ভেতরে তাঁদের জন্য খাবার ও পানি ছিল।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৬০ বছর বয়সী দুর্গা গুরুংয়ের ভাই ঝাপ্পাদ ভূজেলও একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্য গার্ডিয়ানকে দুর্গা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করছি।’ সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুর্গা আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ আমাদের কিছুই বলেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, অলৌকিক কোনো ঘটনা ছাড়া আমাদের আর কোনো আশা নেই।’।
রিপোর্টার নাম: 






















