Hi

১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও নেতৃত্ব হারিয়েও কীভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে হিজবুল্লাহ? বদলাচ্ছে যুদ্ধকৌশল

লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নজিরবিহীন সামরিক ও গোয়েন্দা ধাক্কা কাটিয়ে পুনরায় নিজেদের সংগঠিত করতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ইসরায়েলি হামলায় গোষ্ঠীটির সদর দপ্তর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তৎকালীন প্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হন। শুধু তাই নয়, যোগাযোগমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সাইবার ও প্রযুক্তিগত অনুপ্রবেশের মাধ্যমে হাজার হাজার পেজার ও ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হিজবুল্লাহর নেটওয়ার্কে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল ইসরায়েল। ফলে একপর্যায়ে গোষ্ঠীটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল এবং অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে এই শক্তি আর কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

তবে চরম সংকটময় সেই পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর বেঁচে যাওয়া কমান্ডারেরা ইলেকট্রনিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে নতুন এক কৌশল গ্রহণ করেন। মুঠোফোনের পরিবর্তে মোটরসাইকেল ও স্কুটারে করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় একত্রিত হন তারা। বেকারি, ব্যাংক শাখা কিংবা সাধারণ দোকানের মতো জনবহুল স্থানে মুখোমুখি বৈঠক করে নতুন করে পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা সাজান শীর্ষ নেতৃত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরা벳 জানা গেছে, এই গোপনীয় ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করে দলটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের শুরু থেকেই ইসরায়েলে সীমিত পরিসরে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত জটিল। হাসান নাসরুল্লাহর সেই একক বা সীমিত যুদ্ধকৌশল শেষ পর্যন্ত পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নেয়। কাসেম সোলাইমানির মৃত্যু এবং ইরানের পক্ষ থেকে সীমিত সমর্থনের বার্তা পাওয়ার পরও হিজবুল্লাহ দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলি বাহিনীকে উত্তর সীমান্তে আটকে রাখতে সক্ষম হয়। পেজার ও ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের মতো মারাত্মক গোয়েন্দা ব্যর্থতা এবং বড়ো ধরনের নেতৃত্ব হারানোর পরও হিজবুল্লাহর এই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের নানা কূটনৈতিক উদ্যোগের মাঝেও হিজবুল্লাহ নিজেদের সামরিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং নতুন যুদ্ধকৌশল নিয়ে সামনের দিনগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ।

জনপ্রিয়

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও নেতৃত্ব হারিয়েও কীভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে হিজবুল্লাহ? বদলাচ্ছে যুদ্ধকৌশল

আপডেট : ০৮:২২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নজিরবিহীন সামরিক ও গোয়েন্দা ধাক্কা কাটিয়ে পুনরায় নিজেদের সংগঠিত করতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ইসরায়েলি হামলায় গোষ্ঠীটির সদর দপ্তর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তৎকালীন প্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হন। শুধু তাই নয়, যোগাযোগমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সাইবার ও প্রযুক্তিগত অনুপ্রবেশের মাধ্যমে হাজার হাজার পেজার ও ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হিজবুল্লাহর নেটওয়ার্কে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল ইসরায়েল। ফলে একপর্যায়ে গোষ্ঠীটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল এবং অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে এই শক্তি আর কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

তবে চরম সংকটময় সেই পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর বেঁচে যাওয়া কমান্ডারেরা ইলেকট্রনিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে নতুন এক কৌশল গ্রহণ করেন। মুঠোফোনের পরিবর্তে মোটরসাইকেল ও স্কুটারে করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় একত্রিত হন তারা। বেকারি, ব্যাংক শাখা কিংবা সাধারণ দোকানের মতো জনবহুল স্থানে মুখোমুখি বৈঠক করে নতুন করে পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা সাজান শীর্ষ নেতৃত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরা벳 জানা গেছে, এই গোপনীয় ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করে দলটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের শুরু থেকেই ইসরায়েলে সীমিত পরিসরে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত জটিল। হাসান নাসরুল্লাহর সেই একক বা সীমিত যুদ্ধকৌশল শেষ পর্যন্ত পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নেয়। কাসেম সোলাইমানির মৃত্যু এবং ইরানের পক্ষ থেকে সীমিত সমর্থনের বার্তা পাওয়ার পরও হিজবুল্লাহ দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলি বাহিনীকে উত্তর সীমান্তে আটকে রাখতে সক্ষম হয়। পেজার ও ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের মতো মারাত্মক গোয়েন্দা ব্যর্থতা এবং বড়ো ধরনের নেতৃত্ব হারানোর পরও হিজবুল্লাহর এই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের নানা কূটনৈতিক উদ্যোগের মাঝেও হিজবুল্লাহ নিজেদের সামরিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং নতুন যুদ্ধকৌশল নিয়ে সামনের দিনগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ।