Hi

০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৮ কোটি টাকার ব্রিজ এখন ‘বাঁশের সাঁকো’: দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকায় ৮ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্প আজ জনমানুষের কাছে কৌতুক ও হতাশার প্রতীক। সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় জনগণের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে একটি পুরোনো বাঁশের সাঁকো।
স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ থেকে এই প্রকল্পকে নাম দিয়েছেন—‘৮ কোটি টাকার বাঁশের সাঁকো’!

দিকদর্শনের অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলা বাজার-দনারাম সড়কে বেথরি নদীর উপর একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয় ৭ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ২৪৯ টাকা। কাজের দায়িত্ব পায় শেরপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ধ্রুব মোশারফ (জেবি)’। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত ছিল ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

কিন্তু দিকদর্শনের অনুসন্ধান বলছে, প্রকল্পের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত উধাও হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ, অথচ বরাদ্দের বড় অংশ ইতিমধ্যেই তুলে নিয়েছে তারা।

ফলে এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র পথ এখন সেই পুরোনো বাঁশের তৈরি সাঁকো, যা একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে চরম অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ নারী—সবারই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে।

বাংলা বাজার এলাকার নাজিম আহমেদ, তৈমুর আলি ও আজিজপুরের শাহরিয়ার আহমদ বলেন, এই প্রকল্পে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ করেই ঠিকাদার মোটা অঙ্কের বিল তুলে নেওয়াটা শুধু দায়িত্বহীনতা নয়—এটি জনগণের করের টাকায় প্রকাশ্য চুরি। প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তাদের ভাষায়—”মানুষ দুর্ভোগে, আর কিছু মানুষের জন্য দায়মুক্তির সংস্কৃতি চলছে। আমরা চাই—দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে জনগণের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।”

পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুজেফর আলী দিকদর্শনকে বলেন, “ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে গেছেন। বারবার বলার পরও কাজ শুরু হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

এ বিষয়ে ঠিকাদার ধ্রুব মোশারফ বলেন, “দেশের পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। আমরা মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছি, সুযোগ পেলে আবার কাজ শুরু করব।”

বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুল্লাহ দিকদর্শনকে জানান, “ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ শুরু করানো যায়নি। আমরা চুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি।”

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

৮ কোটি টাকার ব্রিজ এখন ‘বাঁশের সাঁকো’: দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আপডেট : ০৩:০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকায় ৮ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্প আজ জনমানুষের কাছে কৌতুক ও হতাশার প্রতীক। সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় জনগণের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে একটি পুরোনো বাঁশের সাঁকো।
স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ থেকে এই প্রকল্পকে নাম দিয়েছেন—‘৮ কোটি টাকার বাঁশের সাঁকো’!

দিকদর্শনের অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলা বাজার-দনারাম সড়কে বেথরি নদীর উপর একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয় ৭ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ২৪৯ টাকা। কাজের দায়িত্ব পায় শেরপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ধ্রুব মোশারফ (জেবি)’। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত ছিল ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

কিন্তু দিকদর্শনের অনুসন্ধান বলছে, প্রকল্পের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত উধাও হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ, অথচ বরাদ্দের বড় অংশ ইতিমধ্যেই তুলে নিয়েছে তারা।

ফলে এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র পথ এখন সেই পুরোনো বাঁশের তৈরি সাঁকো, যা একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে চরম অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ নারী—সবারই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে।

বাংলা বাজার এলাকার নাজিম আহমেদ, তৈমুর আলি ও আজিজপুরের শাহরিয়ার আহমদ বলেন, এই প্রকল্পে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ করেই ঠিকাদার মোটা অঙ্কের বিল তুলে নেওয়াটা শুধু দায়িত্বহীনতা নয়—এটি জনগণের করের টাকায় প্রকাশ্য চুরি। প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তাদের ভাষায়—”মানুষ দুর্ভোগে, আর কিছু মানুষের জন্য দায়মুক্তির সংস্কৃতি চলছে। আমরা চাই—দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে জনগণের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।”

পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুজেফর আলী দিকদর্শনকে বলেন, “ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে গেছেন। বারবার বলার পরও কাজ শুরু হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

এ বিষয়ে ঠিকাদার ধ্রুব মোশারফ বলেন, “দেশের পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। আমরা মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছি, সুযোগ পেলে আবার কাজ শুরু করব।”

বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুল্লাহ দিকদর্শনকে জানান, “ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ শুরু করানো যায়নি। আমরা চুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি।”