জুন মাসে গ্রাহকদের হাতে আসা অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দেশজুড়ে সৃষ্ট অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল পর্যালোচনা সভায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত বিল তৈরির পেছনে কোনো বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দুর্নীতি, গাফিলতি বা অসদুপায় অবলম্বনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় উঠে আসে যে, জুন মাসে অনেক গ্রাহক স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ বিল পেয়েছেন, যা নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের অস্বাভাবিক বিলের পেছনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি মানবিক ভুল রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ সচিব। তিনি সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন গ্রাহকদের অভিযোগগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করা হয়। কোনো করণিক বা কারিগরি ভুলের কারণে বিল অস্বাভাবিক হয়ে থাকলে তা অনতিবিলম্বে সংশোধনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে, তারা জানান যে মাঠপর্যায়ে এ সংক্রান্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে ডিসিরা সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সভায় লোডশেডিং পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা এবং বিভিন্ন এলাকায় সোলার নেট মিটারিং সিস্টেম চালুর অগ্রগতির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গ্রাহকসেবার মান উন্নত করতে এবং হয়রানি কমাতে বিদ্যুৎ বিভাগ হটলাইন সেবাগুলোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছে। যে কোনো গ্রাহক অতিরিক্ত বিল বা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যায় সরাসরি নিজ নিজ বিতরণ সংস্থার হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন। জরুরি সেবার জন্য বিপিডিবি (১৬২০০), পল্লী বিদ্যুৎ (১৬৮৯৯), ডেসকো (১৬১২০), নেসকো (১৬৬০৩), ওজোপাডিকো (১৬১১৭) এবং কেন্দ্রীয় সেবা নম্বর ১৬৯৯৯-এ যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার নাম: 





















