ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করা এবং লুকানো ফি আদায়ের অভিযোগে মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে ৩৫ মিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে জনপ্রিয় ট্রাভেল বুকিং অ্যাপ ‘হপার’। এফটিসির তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বা বিভ্রান্তিকর ডিজিটাল নকশা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের ভুল পথে পরিচালিত করেছে। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এবং সেবার প্রকৃত খরচ ও সুবিধা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছে।
তদন্তকারী সংস্থাটির ভাষ্যমতে, হপার তাদের অ্যাপে এমন কিছু ফিচার ব্যবহার করেছিল যা গ্রাহকদের দ্রুত বুকিং সম্পন্ন করতে প্ররোচিত করত, অথচ সেই বুকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বাড়তি ফি বা শর্তাবলী পরিষ্কারভাবে জানানো হতো না। বিশেষ করে, ‘ফ্লেক্সিবল রিফান্ড’ বা ‘প্রাইস ফ্রিজ’-এর মতো সুবিধাগুলোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অথবা না বুঝেই অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
এফটিসির পরিচালক স্যামুয়েল লেভাইন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকদের বোকা বানানোর প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হপারকে এই বিপুল অংকের জরিমানা করার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো কোম্পানিই স্বচ্ছতার ঊর্ধ্বে নয়। ৩৫ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল অংকের অর্থ মূলত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে। এ ছাড়া, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণামূলক কৌশল অবলম্বন থেকে বিরত থাকার জন্য কোম্পানিটিকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বা ওটিএ (OTA) প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যপদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হপারের এই ঘটনা ডিজিটাল অর্থনীতির বাজারে একটি সতর্কবার্তা। গ্রাহক সুরক্ষায় এফটিসির এই কঠোর পদক্ষেপ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভ্রমণ বুকিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে, আর সেই সুযোগে অনেক প্রতিষ্ঠানই তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। হপার কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, তারা এখন থেকে আরও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক নীতি অনুসরণ করবে এবং তাদের প্ল্যাটফর্মের ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় এফটিসির এই জয়কে ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 






















