Hi

০৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ যেন চরিত্রহননের মঞ্চ না হয়

জাতীয় সংসদকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চরিত্রহননের জায়গা না বানানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদ হবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও জনকল্যাণের বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনার মঞ্চ। অতীতে অনেক সময় জনস্বার্থের আলোচনা বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণই বেশি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি সংসদের নতুন যাত্রা নিয়ে আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শুরুতে দেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি জাতি চিরঋণী। বিশেষভাবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই সরকারবিরোধী ভেদাভেদ নয়, স্পিকারের কাছে আমরা সবার জন্য সুবিচার প্রত্যাশা করি। তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম হয়েছেন বা আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়েই এই সংসদে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংসদের অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেক সময় দেশের মানুষের কল্যাণ নিয়ে আলোচনার চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননের ঘটনাই বেশি ঘটেছে। তাই তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, এই সংসদ যেন কারও চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। এখানে যেন জনকল্যাণের বিষয়গুলোই অগ্রাধিকার পায়।

বর্তমান সংসদকে তিনি গতানুগতিক কোনো সংসদ নয় বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এটি অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে গঠিত একটি সংসদ। সংসদ সঠিকভাবে পরিচালিত হলে রাষ্ট্রের অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, নির্বাহী ও বিচার বিভাগও সঠিকভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় পদ ত্যাগ করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এতে সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে বলে তারা আশা করেন। তার মতে, স্পিকারের কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।

বক্তব্যে তরুণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে গঠনমূলক রাজনীতি ও ইতিবাচক উদ্যোগ প্রত্যাশা করছে দেশবাসী।

জুলাই আন্দোলনের স্লোগান স্মরণ করে তিনি বলেন, উই ওয়ান্ট জাস্টিস। তার মতে, সংসদের মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের নানা অসংগতি দূর হবে, এটাই দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা।

বক্তব্যের শেষে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান বিরোধীদলীয় নেতা। একই সঙ্গে সংসদের সব গঠনমূলক কাজে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন তিনি।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

সংসদ যেন চরিত্রহননের মঞ্চ না হয়

আপডেট : ০১:৩৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চরিত্রহননের জায়গা না বানানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদ হবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও জনকল্যাণের বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনার মঞ্চ। অতীতে অনেক সময় জনস্বার্থের আলোচনা বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণই বেশি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি সংসদের নতুন যাত্রা নিয়ে আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শুরুতে দেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি জাতি চিরঋণী। বিশেষভাবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই সরকারবিরোধী ভেদাভেদ নয়, স্পিকারের কাছে আমরা সবার জন্য সুবিচার প্রত্যাশা করি। তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম হয়েছেন বা আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়েই এই সংসদে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংসদের অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেক সময় দেশের মানুষের কল্যাণ নিয়ে আলোচনার চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননের ঘটনাই বেশি ঘটেছে। তাই তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, এই সংসদ যেন কারও চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। এখানে যেন জনকল্যাণের বিষয়গুলোই অগ্রাধিকার পায়।

বর্তমান সংসদকে তিনি গতানুগতিক কোনো সংসদ নয় বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এটি অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে গঠিত একটি সংসদ। সংসদ সঠিকভাবে পরিচালিত হলে রাষ্ট্রের অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, নির্বাহী ও বিচার বিভাগও সঠিকভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় পদ ত্যাগ করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এতে সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে বলে তারা আশা করেন। তার মতে, স্পিকারের কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।

বক্তব্যে তরুণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে গঠনমূলক রাজনীতি ও ইতিবাচক উদ্যোগ প্রত্যাশা করছে দেশবাসী।

জুলাই আন্দোলনের স্লোগান স্মরণ করে তিনি বলেন, উই ওয়ান্ট জাস্টিস। তার মতে, সংসদের মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের নানা অসংগতি দূর হবে, এটাই দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা।

বক্তব্যের শেষে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান বিরোধীদলীয় নেতা। একই সঙ্গে সংসদের সব গঠনমূলক কাজে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন তিনি।