Hi

০১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মোস্তফার বাবা কাবিল সরকারের বিরুদ্ধে

মুসলিম বাজার সমিতির শত কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

  • মীর আলাউদ্দিন
  • আপডেট : ১১:১৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৭৮ জন দেখেছে

যে কায়দা কৌশলে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গিলে খাওয়া হয়েছে মুসলিম বাজার, ঠিক একই কায়দায় আবারো মুসলিম বাজারে লুটপাট চালানোর সেরকম ফন্দি ফিকির চলছে। র্দীঘ ১৭ বছর চলেছে বাবার লুটপাট এবার সেই হাল ধরেছেন ছেলে। সব ঠিকঠাক চললেও বিপত্তি বাধে যখন বাবার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ উঠে। আর এতেই পাগলপ্রায় হয়ে যান ছেলে,যারা অভিযোগ করেছেন তাদের শুরু করেন মারধর থেকে নানা অত্যাচার। যারাই প্রতিবাদ করছেন তাদের উপরেই চলছে জুলুম নির্যাতন। স্বৈরাচার সরকারের আমলে আওয়ামীলীগের আমলে স্থানীয় এমপির ছায়াতলে থেকে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এসএম গোলাম মোস্তফার বাবা কাবিল হোসেন সরকার শাসন করেছেন গোটা মুসলিম বাজার। রাজধানীর মিরপুর-১২ তে অবস্থিত এই ঐতিহ্যাবাহী মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমিতি লিমিটেডের বিগত ১৭ বছরের কমিটির বিরুদ্ধে ৮৫ থেকে ১০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু এবারই দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এমনই নয় এর আগেও ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০ টাকা এর মধ্যে সমবায় আইনে ২০০২ সালে তদন্তের মাধ্যমে ১৩৩ মাসের হিসাবে ৩ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন কাবিল হোসেন সরকার ও মকবুল পরিষদ। গোলাম মোস্তফার পিতা এই কাবিল হোসেন সরকার সে সময় জেলও খাটেন এবং ওই কমিটির আরেকজন সাধারণ সম্পাদক জেলে সাজা কাটার সময় মৃত্যুবরণ করেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসররা বিনা ভোটেই সিলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সমিতিতে এসে সভাপতি আলহাজ মো. কবির হোসেন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ কদম আলী মাদবর লুটপাট করেছে কোটি কোটি টাকা। দোকানদাররা তাদের কষ্টের অর্জিত টাকা সমিতিতে দেন ব্যবসার উন্নয়নে। অথচ এই টাকা ভুয়া খাতে খরচ ও লুটপাট করেছে বিগত কমিটির সদস্যরা বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কাবিল হোসেন সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অধ্যাপক মোঃ দিলওয়ার হোসেন, আলহাজ মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ হাবিববুর রহমান হাওলাদার, ইঞ্জিনিয়ার এসএম বাবলুর রহমান, ইফতেখারুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, সামছুল হক, নুরুল ইসলাম লাল মিয়া মল্লিক ও সামছুন নাহার। বেসরকারি অডিট ফার্মের মাধ্যমে এর সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বিগত ১৭ বছরে সমিতির প্রতিটি আয় ব্যায়ের সঠিক হিসাব দিতে হবে অন্যথায় আরো কঠোর আন্দোলন এবং প্রেসক্লাবে মানববন্ধনসহ সমবায় অফিসে ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন।

বিগত ১৭ বছর আগে সাজ্জাদ, সেলিম পরিষদকে জোর পূর্বক বের করে দিয়ে দ্বায়িত্ব নেন আওয়ামীলীগের কান্ডারী কাবিল হোসেন সরকাররা। কাবিল হোসেন সরকার মুসলিম বাজার মার্কেট সমবায় সমিতির দ্বায়িত্ব নেবার পর থেকেই চলেছে সীমাহীন লুটপাট ও দূনীর্তি। ১৭ বছর আগে সাজ্জাদ-সেলিম পরিষদকে জোর পূর্বক বিদায় করার সময় সমিতির একাউন্টে প্রায় ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা ছিলো, ৯৯৪ জন সদস্য নিয়মিত ১২০ টাকা করে বছরে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৩৬০ টাকা ১৬ বছর যাবত জমা করে আসছেন, ১৬ বছরে যার পরিমাণ সর্বমোট ২ কোটি ২৯ লাখ ১ হাজার ৭৬০ টাকা। নতুন পুরাতন অনেকেই টাকা জমা দিয়েও দোকান পান নাই, দেওয়া হয়নি টাকার কোন রশিদ, কাগজে কলমে ২৬০ টি দোকানের কথা উল্লেখ থাকলেও মুসলিম বাজারে দোকান রয়েছে ৩৩৫ টি, বর্তমান বাজারের দোকান মালিকের কাছ থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে ৩৩৫ টি দোকানে সর্বমোট ৫ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। সমিতির মার্কেটে মোট দোকানের সংখ্যা ৩৩৫ টি হল বিগত ১০ বছর যাবত ব্যবস্থাপনা কমিটি সমিতির বার্ষিক অডিট প্রতিবেদনে ২৬০ টি দোকান দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় বাবদ বিপুল পরিমাণ অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সমবায়ের বার্ষিক অডিটে আয় ব্যয়ের আসল হিসাব না দিয়ে নিজেদের মনগড়া হিসাব দিয়ে অডিট করিয়েছেন এবং নিজেদের পকেট ভারি করেছেন।

আরো পড়ুন : অপ্রতিরোধ্য পল্লবীর মাদক সাম্রাজ্য

সমিতির পুরাতন বাজারে কতটি দোকান ছিল আর বর্তমান বাজারে কতটি দোকান আছে তার কোন সঠিক হিসাব নাই। পুরাতন বাজারের অনেক দোকান মালিক কে নতুন বাজারে দোকান দেওয়া হয় নাই। পুরাতন ও নতুন বাজারের দোকানের মালিকদের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ও দেড় লক্ষ টাকা হারে নিলেও রশিদ প্রদান করেননি আরো কিছু দোকান দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নারে বানিয়ে বিক্রি করেন তারা। মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড ১৬ বছরের অনিয়ম দুর্নীতি আত্মসাৎ করে কাবিল হোসেন সরকার ও কদম আলী পরিষদ এবং হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় একশো কোটি টাকা বলে অভিযোগ উঠেছে।

তার ছেলে এসএম গোলাম মোস্তফা বর্তমানে বাজারের সাধারণ সম্পাদক তার বরাবর তার পিতা কাবিল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দেওয়ায় সদস্যদেরকে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাজারে তার বাবার এসব দূর্নীতির বিষয়ে কথা বলার কারণে প্রকাশে জুতা পিটা করেন আব্দুর রশিদ মাস্টার নামের একজন শিক্ষককে। এসএম গোলাম মোস্তফার বাবা কাবিল হোসেনের বিষয়ে ২৩ শে জানুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে মুসলিম বাজারে সাংবাদিক সম্মেলন হয়, সেখানে ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার অনিয়মের দুর্নীতির কথা উঠে আসে। মুসলিম বাজারের নামে জমির পরিমাণ চার বিঘা ১৭ শতাংশ সমবায় আইন অনুযায়ী সমবায় সমিতি অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলে সমবায়ের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিগত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে মুসলিম বাজার মাকের্টে বহুতলা ভবন নির্মাণে অসম্পূর্ণ চুক্তি সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে চার জুন ২০১৭ সালে নতুন করে আরও একটি চুক্তি করে যার জমি পরিমাণ দাঁড়ায় চার বিঘা ১৭ শতাংশ তার মধ্যে জমির মালিক ডেভলপার কোম্পানী ৩০ পার্সেন্ট সমবায় সমিতি ৭০ পার্সেন্ট মালিক হিসেবে উল্লেখ হয়।

চুক্তি সম্পাদনের ১৮০ দিনের মধ্যে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন ও জাতীয় গৃহায়ণ থেকে বাণিজ্যিক কাম আবাসিক করবেন পেভোলপার কোম্পানি। তৎকালীন কমিটি দ্বিতীয় পক্ষ সেজে নিজ দ্বায়িত্বে এই চুক্তির মধ্যে কোথাও উল্লেখ করেন নাই মার্কেট বা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে বা এতা দিনের মধ্যে সম্পূন্ন কাজ বুঝিয়ে দেবেন। মুসলিম বাজার সমিতির স্থানটি বাণিজ্যিক করার জন্য অর্থ ব্যয় হবে ১৮ কোটি টাকা উক্ত ১৮ কোটি টাকা জমজম ডেভেলপার্স নিজ দ্বায়িত্বে খরচ করবেন বলে জানা যায়। কিন্তু সে সময়ের কমিটি এই বাণিজ্যিক করার নামেও ১৮ কোটি টাকা দূনীর্তি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও যে সমস্ত বিষয়ে অনিয়ম-দূনীর্তি হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বিগত ১৪-১২-২০১৫ ইং ও ৪-৬-২০১৭ ইং ডেভলপারের সাথে যে সাইন ইন মানি পাঁচ কোটি টাকা নেয়া হয়েছে সমিতির ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে তার অমিল, বিগত আট বছরে ২০০০ টাকা করে ৩৩৫ টি দোকান থেকে নেওয়া হয়েছে, আট বছরে সে টাকার পরিমাণ দাড়ায় ৬ কোটি ৪৩ লক্ষ বিশ হাজার টাকা, বিগত আট বছরে ৯০ টি দোকান বিক্রি করেছে যার আর্থিক ক্ষতি সাধন হয়েছে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা এই দোকানগুলো যদি ভাড়া দেওয়া হতো তাহলে তার ভাড়া হতো কমপক্ষে ১২/১৩ কোটি টাকা। এসব অবৈধ্যভাবে দোকান বিক্রি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাতিল করতে হবে এবং এই আত্মসাৎকৃত টাকা সমিতির হিসেবে আনতে হবে বলে দাবি করেন সদস্যরা। সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স বাবদ প্রতি দোকান থেকে নিয়েছেন ৮৪০০ টাকা করে সর্বমোট ২৮১৪০০০ টাকা, সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে এক লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা এক লক্ষ ৩০ হাজার টাকা করে তাতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার মত নেওয়া হয়েছে। বাজারে বিদ্যুৎ বিল ও সিকিউরিটি গার্ড, পানির বিল, পাবলিক টয়লেটসহ অন্যান্য।

ফাইলের নাম পরিবর্তন ফি বাবাদ নেওয়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকা এবং বিগত ১৬ বছর কতটা ফাইল পরিবর্তন হয়েছে তার হিসাব চাই সদস্যরা। পুরাতন বাজারের স্থাপনা যেগুলো জোর করে বিক্রি করেছে সেগুলো সমিতির মাধ্যমে নিয়ে আসতে হবে। ডেভলপারের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন ১৩ কোটি টাকা চারটি স্ট্যাম্প নাম্বারে ৭৯৫৫১৬১, ৭৯৫৫১৬২, ৭৯৫৫১৬৩, ৭৯৫৫১৬৪ যাহার মধ্যে দিন তারিখ কোথাও উল্লেখ নাই, কোন সাক্ষীও নাই, স্ট্যাম্পে উল্লেখিত ১১-২০১৮ ইং তারিখ এর সময় এই টাকা ব্যাংকে জমা হয় নাই। ডেভলপারের সাথে চুক্তি মোতাবেক ৬ও৭ কলামে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে রাজউক নকশা অনুমোদন এবং জাতীয় গৃহায়ন থেকে বাণিজ্যিক কাম আবাসিক বিধি মোতাবেক দ্বিতীয়পক্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজে বহন করিবেন।

২য় পক্ষ নিজ একাউন্ট হতে ১৮ কোটি টাকা জমা প্রদান করেন। অথচ কাবিল, কদম পরিষদ সদস্যদের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সেই সময় জানিয়েছেন যে কমিটি সেই ১৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন এবং সেই টাকা তারা দুর্নীতি করেছেন। এসব বিষয় উল্লেখ করে সমবায়ের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন সমিতির সদস্যরা। আর মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে কথা বলার কারণে মারধরের শিকার হচ্ছেন অনেকে। অনেকে আবার এই বিষয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন। সমিতির সদস্য আশিক এলাহী, বশির উদ্দিনসহ অনেকে সমিতির বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরাবর সমবায় অধিদপ্তরের বিভিন্ন অফিসার বরাবর দরখাস্ত করলে তাকেও বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয় তিনিও পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

আরো পড়ুন : মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে দাপুটে মাদক সম্রাজ্ঞীরা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

মোস্তফার বাবা কাবিল সরকারের বিরুদ্ধে

মুসলিম বাজার সমিতির শত কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

আপডেট : ১১:১৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যে কায়দা কৌশলে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গিলে খাওয়া হয়েছে মুসলিম বাজার, ঠিক একই কায়দায় আবারো মুসলিম বাজারে লুটপাট চালানোর সেরকম ফন্দি ফিকির চলছে। র্দীঘ ১৭ বছর চলেছে বাবার লুটপাট এবার সেই হাল ধরেছেন ছেলে। সব ঠিকঠাক চললেও বিপত্তি বাধে যখন বাবার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ উঠে। আর এতেই পাগলপ্রায় হয়ে যান ছেলে,যারা অভিযোগ করেছেন তাদের শুরু করেন মারধর থেকে নানা অত্যাচার। যারাই প্রতিবাদ করছেন তাদের উপরেই চলছে জুলুম নির্যাতন। স্বৈরাচার সরকারের আমলে আওয়ামীলীগের আমলে স্থানীয় এমপির ছায়াতলে থেকে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এসএম গোলাম মোস্তফার বাবা কাবিল হোসেন সরকার শাসন করেছেন গোটা মুসলিম বাজার। রাজধানীর মিরপুর-১২ তে অবস্থিত এই ঐতিহ্যাবাহী মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমিতি লিমিটেডের বিগত ১৭ বছরের কমিটির বিরুদ্ধে ৮৫ থেকে ১০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু এবারই দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এমনই নয় এর আগেও ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০ টাকা এর মধ্যে সমবায় আইনে ২০০২ সালে তদন্তের মাধ্যমে ১৩৩ মাসের হিসাবে ৩ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন কাবিল হোসেন সরকার ও মকবুল পরিষদ। গোলাম মোস্তফার পিতা এই কাবিল হোসেন সরকার সে সময় জেলও খাটেন এবং ওই কমিটির আরেকজন সাধারণ সম্পাদক জেলে সাজা কাটার সময় মৃত্যুবরণ করেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসররা বিনা ভোটেই সিলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সমিতিতে এসে সভাপতি আলহাজ মো. কবির হোসেন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ কদম আলী মাদবর লুটপাট করেছে কোটি কোটি টাকা। দোকানদাররা তাদের কষ্টের অর্জিত টাকা সমিতিতে দেন ব্যবসার উন্নয়নে। অথচ এই টাকা ভুয়া খাতে খরচ ও লুটপাট করেছে বিগত কমিটির সদস্যরা বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কাবিল হোসেন সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অধ্যাপক মোঃ দিলওয়ার হোসেন, আলহাজ মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ হাবিববুর রহমান হাওলাদার, ইঞ্জিনিয়ার এসএম বাবলুর রহমান, ইফতেখারুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, সামছুল হক, নুরুল ইসলাম লাল মিয়া মল্লিক ও সামছুন নাহার। বেসরকারি অডিট ফার্মের মাধ্যমে এর সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বিগত ১৭ বছরে সমিতির প্রতিটি আয় ব্যায়ের সঠিক হিসাব দিতে হবে অন্যথায় আরো কঠোর আন্দোলন এবং প্রেসক্লাবে মানববন্ধনসহ সমবায় অফিসে ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন।

বিগত ১৭ বছর আগে সাজ্জাদ, সেলিম পরিষদকে জোর পূর্বক বের করে দিয়ে দ্বায়িত্ব নেন আওয়ামীলীগের কান্ডারী কাবিল হোসেন সরকাররা। কাবিল হোসেন সরকার মুসলিম বাজার মার্কেট সমবায় সমিতির দ্বায়িত্ব নেবার পর থেকেই চলেছে সীমাহীন লুটপাট ও দূনীর্তি। ১৭ বছর আগে সাজ্জাদ-সেলিম পরিষদকে জোর পূর্বক বিদায় করার সময় সমিতির একাউন্টে প্রায় ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা ছিলো, ৯৯৪ জন সদস্য নিয়মিত ১২০ টাকা করে বছরে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৩৬০ টাকা ১৬ বছর যাবত জমা করে আসছেন, ১৬ বছরে যার পরিমাণ সর্বমোট ২ কোটি ২৯ লাখ ১ হাজার ৭৬০ টাকা। নতুন পুরাতন অনেকেই টাকা জমা দিয়েও দোকান পান নাই, দেওয়া হয়নি টাকার কোন রশিদ, কাগজে কলমে ২৬০ টি দোকানের কথা উল্লেখ থাকলেও মুসলিম বাজারে দোকান রয়েছে ৩৩৫ টি, বর্তমান বাজারের দোকান মালিকের কাছ থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে ৩৩৫ টি দোকানে সর্বমোট ৫ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। সমিতির মার্কেটে মোট দোকানের সংখ্যা ৩৩৫ টি হল বিগত ১০ বছর যাবত ব্যবস্থাপনা কমিটি সমিতির বার্ষিক অডিট প্রতিবেদনে ২৬০ টি দোকান দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় বাবদ বিপুল পরিমাণ অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সমবায়ের বার্ষিক অডিটে আয় ব্যয়ের আসল হিসাব না দিয়ে নিজেদের মনগড়া হিসাব দিয়ে অডিট করিয়েছেন এবং নিজেদের পকেট ভারি করেছেন।

আরো পড়ুন : অপ্রতিরোধ্য পল্লবীর মাদক সাম্রাজ্য

সমিতির পুরাতন বাজারে কতটি দোকান ছিল আর বর্তমান বাজারে কতটি দোকান আছে তার কোন সঠিক হিসাব নাই। পুরাতন বাজারের অনেক দোকান মালিক কে নতুন বাজারে দোকান দেওয়া হয় নাই। পুরাতন ও নতুন বাজারের দোকানের মালিকদের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ও দেড় লক্ষ টাকা হারে নিলেও রশিদ প্রদান করেননি আরো কিছু দোকান দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নারে বানিয়ে বিক্রি করেন তারা। মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড ১৬ বছরের অনিয়ম দুর্নীতি আত্মসাৎ করে কাবিল হোসেন সরকার ও কদম আলী পরিষদ এবং হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় একশো কোটি টাকা বলে অভিযোগ উঠেছে।

তার ছেলে এসএম গোলাম মোস্তফা বর্তমানে বাজারের সাধারণ সম্পাদক তার বরাবর তার পিতা কাবিল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দেওয়ায় সদস্যদেরকে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাজারে তার বাবার এসব দূর্নীতির বিষয়ে কথা বলার কারণে প্রকাশে জুতা পিটা করেন আব্দুর রশিদ মাস্টার নামের একজন শিক্ষককে। এসএম গোলাম মোস্তফার বাবা কাবিল হোসেনের বিষয়ে ২৩ শে জানুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে মুসলিম বাজারে সাংবাদিক সম্মেলন হয়, সেখানে ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার অনিয়মের দুর্নীতির কথা উঠে আসে। মুসলিম বাজারের নামে জমির পরিমাণ চার বিঘা ১৭ শতাংশ সমবায় আইন অনুযায়ী সমবায় সমিতি অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলে সমবায়ের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিগত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে মুসলিম বাজার মাকের্টে বহুতলা ভবন নির্মাণে অসম্পূর্ণ চুক্তি সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে চার জুন ২০১৭ সালে নতুন করে আরও একটি চুক্তি করে যার জমি পরিমাণ দাঁড়ায় চার বিঘা ১৭ শতাংশ তার মধ্যে জমির মালিক ডেভলপার কোম্পানী ৩০ পার্সেন্ট সমবায় সমিতি ৭০ পার্সেন্ট মালিক হিসেবে উল্লেখ হয়।

চুক্তি সম্পাদনের ১৮০ দিনের মধ্যে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন ও জাতীয় গৃহায়ণ থেকে বাণিজ্যিক কাম আবাসিক করবেন পেভোলপার কোম্পানি। তৎকালীন কমিটি দ্বিতীয় পক্ষ সেজে নিজ দ্বায়িত্বে এই চুক্তির মধ্যে কোথাও উল্লেখ করেন নাই মার্কেট বা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে বা এতা দিনের মধ্যে সম্পূন্ন কাজ বুঝিয়ে দেবেন। মুসলিম বাজার সমিতির স্থানটি বাণিজ্যিক করার জন্য অর্থ ব্যয় হবে ১৮ কোটি টাকা উক্ত ১৮ কোটি টাকা জমজম ডেভেলপার্স নিজ দ্বায়িত্বে খরচ করবেন বলে জানা যায়। কিন্তু সে সময়ের কমিটি এই বাণিজ্যিক করার নামেও ১৮ কোটি টাকা দূনীর্তি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও যে সমস্ত বিষয়ে অনিয়ম-দূনীর্তি হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বিগত ১৪-১২-২০১৫ ইং ও ৪-৬-২০১৭ ইং ডেভলপারের সাথে যে সাইন ইন মানি পাঁচ কোটি টাকা নেয়া হয়েছে সমিতির ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে তার অমিল, বিগত আট বছরে ২০০০ টাকা করে ৩৩৫ টি দোকান থেকে নেওয়া হয়েছে, আট বছরে সে টাকার পরিমাণ দাড়ায় ৬ কোটি ৪৩ লক্ষ বিশ হাজার টাকা, বিগত আট বছরে ৯০ টি দোকান বিক্রি করেছে যার আর্থিক ক্ষতি সাধন হয়েছে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা এই দোকানগুলো যদি ভাড়া দেওয়া হতো তাহলে তার ভাড়া হতো কমপক্ষে ১২/১৩ কোটি টাকা। এসব অবৈধ্যভাবে দোকান বিক্রি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাতিল করতে হবে এবং এই আত্মসাৎকৃত টাকা সমিতির হিসেবে আনতে হবে বলে দাবি করেন সদস্যরা। সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স বাবদ প্রতি দোকান থেকে নিয়েছেন ৮৪০০ টাকা করে সর্বমোট ২৮১৪০০০ টাকা, সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে এক লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা এক লক্ষ ৩০ হাজার টাকা করে তাতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার মত নেওয়া হয়েছে। বাজারে বিদ্যুৎ বিল ও সিকিউরিটি গার্ড, পানির বিল, পাবলিক টয়লেটসহ অন্যান্য।

ফাইলের নাম পরিবর্তন ফি বাবাদ নেওয়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকা এবং বিগত ১৬ বছর কতটা ফাইল পরিবর্তন হয়েছে তার হিসাব চাই সদস্যরা। পুরাতন বাজারের স্থাপনা যেগুলো জোর করে বিক্রি করেছে সেগুলো সমিতির মাধ্যমে নিয়ে আসতে হবে। ডেভলপারের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন ১৩ কোটি টাকা চারটি স্ট্যাম্প নাম্বারে ৭৯৫৫১৬১, ৭৯৫৫১৬২, ৭৯৫৫১৬৩, ৭৯৫৫১৬৪ যাহার মধ্যে দিন তারিখ কোথাও উল্লেখ নাই, কোন সাক্ষীও নাই, স্ট্যাম্পে উল্লেখিত ১১-২০১৮ ইং তারিখ এর সময় এই টাকা ব্যাংকে জমা হয় নাই। ডেভলপারের সাথে চুক্তি মোতাবেক ৬ও৭ কলামে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে রাজউক নকশা অনুমোদন এবং জাতীয় গৃহায়ন থেকে বাণিজ্যিক কাম আবাসিক বিধি মোতাবেক দ্বিতীয়পক্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজে বহন করিবেন।

২য় পক্ষ নিজ একাউন্ট হতে ১৮ কোটি টাকা জমা প্রদান করেন। অথচ কাবিল, কদম পরিষদ সদস্যদের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সেই সময় জানিয়েছেন যে কমিটি সেই ১৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন এবং সেই টাকা তারা দুর্নীতি করেছেন। এসব বিষয় উল্লেখ করে সমবায়ের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন সমিতির সদস্যরা। আর মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে কথা বলার কারণে মারধরের শিকার হচ্ছেন অনেকে। অনেকে আবার এই বিষয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন। সমিতির সদস্য আশিক এলাহী, বশির উদ্দিনসহ অনেকে সমিতির বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরাবর সমবায় অধিদপ্তরের বিভিন্ন অফিসার বরাবর দরখাস্ত করলে তাকেও বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয় তিনিও পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

আরো পড়ুন : মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে দাপুটে মাদক সম্রাজ্ঞীরা