Hi

১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মদিন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ জন দেখেছে

আজ ২৯ অক্টোবর, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপনকারী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জন্মদিন। দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা সাত বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে তিনি অন্যতম, যার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

১৯৪১ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডে জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান। তার বাবা মৌলবি আবদুস সামাদ ও মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। পারিবারিকভাবে তাদের আদি নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে। শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের সারগোদায় অবস্থিত বিমানবাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন তিনি।

মতিউর রহমান ১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৩ সালে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছুটিতে দেশে এসে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই সময় তিনি ভৈরব এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধেও সরাসরি অংশ নেন।

পরবর্তীতে তিনি পুনরায় পাকিস্তানে ফিরে যান এবং সেখান থেকে একটি প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের দুঃসাহসী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে উড্ডয়নের সময় তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পাকিস্তানের থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হলে তিনি শহীদ হন। তার এই অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করে।

ভারতের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালীন নিউজিল্যান্ড দলে ইনজুরি সংকট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আজ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মদিন

আপডেট : ১০:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আজ ২৯ অক্টোবর, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপনকারী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জন্মদিন। দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা সাত বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে তিনি অন্যতম, যার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

১৯৪১ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডে জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান। তার বাবা মৌলবি আবদুস সামাদ ও মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। পারিবারিকভাবে তাদের আদি নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে। শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের সারগোদায় অবস্থিত বিমানবাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন তিনি।

মতিউর রহমান ১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৩ সালে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছুটিতে দেশে এসে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই সময় তিনি ভৈরব এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধেও সরাসরি অংশ নেন।

পরবর্তীতে তিনি পুনরায় পাকিস্তানে ফিরে যান এবং সেখান থেকে একটি প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের দুঃসাহসী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে উড্ডয়নের সময় তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পাকিস্তানের থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হলে তিনি শহীদ হন। তার এই অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করে।